• সিরিয়ার সরকার উৎখাতে জিহাদীদেরকে সরাসরি অস্ত্র দিবে যুক্তরাষ্ট্রঃ নৌ-ফ্লাই-জৌন আরোপের সম্ভাবনা
    syria_regional_map.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৪ জুন ২০১৩, শুক্রবারঃ  সিরিয়ায় সুন্নি ইসলামবাদী জিহাদীদের বিরুদ্ধে সরকারী সেনাবাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এমন দাবি করে বিদ্রোহীদের সরাসরি অস্ত্র দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিপরীতে রাশিয়া সে-দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বিদ্রোহীদেরকে নতুন করে অস্ত্র দেয়ার মধ্য দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, সিরিয়ার সরকার স্বল্পমাত্রায় কয়েকবার 'সারিন গ্যাস' ব্যবহার করেছে, যাতে ১০০ থেকে ১৫০ জন বিদ্রোহী মারা পড়েছে। প্রেসিডেণ্ট ওবামা ঘোষণা করেছেন, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার করে বাশার আল-আসাদ 'লাল-দাগ' অতিক্রম করেছেন। দেশটির সিনেটের সদস্য জন ম্যাককেইন - যিনি সিরিয়া আক্রমণ করার জন্য শুরু থেকেই দেন-দরবার করে আসছেন - এ-সংবাদে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

    তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের। দেশটির প্রেসিডেণ্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, 'সত্যি বলতে কি, আমাদেরকে [রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত] যা-যা বলা হয়েছে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ওগুলোকে এমনকি সঠিক তথ্য বলাও কঠিন'।

    সিরিয়ার সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ও বিদ্রোহীদেরকে অস্ত্র দেয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সরকারের রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের দাবিকে 'মিথ্যার কাফেলা' আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেছে দামেস্ক। যুক্তরাষ্ট্র 'সন্ত্রাসী দমনের দ্বৈত-নীতি নিয়েছে' বলেও অভিযোগ করা হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে।

    যুক্তরাষ্ট্র কী-কী অস্ত্র সিরিয়ার সুন্নি বিদ্রোহীদেরকে দিবে স্পষ্ট করে তার কোনও তালিকা না দিলেও জানিয়েছে, ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, মেশিনগান ইত্যাদি দেয়া হবে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে বিদ্রোহীদেরকে নতুন অস্ত্র-চালনার প্রশিক্ষণ দেবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা  সিআইএ। সিরিয়ার অভ্যন্তরে বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ নিরুপদ্রব করতে সীমিত আকারে হলেও নৌ-ফ্লাই-জৌন আরোপ করার সম্ভবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। এ-ক্ষেত্রে জর্ডানে মোতায়েনকৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা-শক্তি ব্যবহার করা হতে পারে

    সিরিয়ায় ২৬ মাস ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারী সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদেরকে কোনঠাসা করতে সমর্থ হচ্ছে। গত সপ্তায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কুসাইর শহর প্রায় এক বছর পরে বিদ্রোহীদের কাছ থেকে পুনর্দখল করে তারা। বিদ্রোহীদের দখলে থাকা পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এ-মুহূর্তে চলছে সরকারী অভিযান।

    উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র একইভাবে দেশটিতে 'উইপেন অফ মাস ডেস্ট্রাকশন' বা গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুত রয়েছে বলে আরেক আরব দেশ ইরাকে আক্রমণ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ২০১১ সালে লিবিয়ায়তেও নৌ-ফ্লাই-জৌন আরোপ করে টানা ৭ মাস ন্যাটো বোমাবর্ষণ করে ইসলামবাদী বিদ্রোহীদের হাতে দেশটির সরকার উৎখাত নিশ্চিত করে।

     

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন