• সিরিয়ায় প্রেসিডেণ্ট নির্বাচন জুনেঃ বিদ্রোহীদের হাতে এবার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র
    syria_asad_visiting_christian_village_small.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২২ এপ্রিল ২০১৪, মঙ্গলবারঃ তিন বছর ধরে গৃহযুদ্ধে কবলিত সিরিয়ায় জুনের ৩ তারিখে প্রেসিডেণ্ট নির্বাচনের অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিদ্রোহ-আক্রান্ত প্রেসিডেণ্ট আসাদ এখনও তার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা ঘোষণা না করলেও এটি প্রায় নিশ্চিত যে তিনি নির্বাচন অংশ নিবেন। ইসলামবাদী বিদ্রোহীরা এ-ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও এ-নির্বাচনকে শান্তি-প্রক্রিয়ার প্রতি হুমকি বলে বর্ণনা করেছে।

    প্রায় এক তৃতীয়াংশ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হওয়া দেশে আদৌ কি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি-না এমন প্রশ্ন উঠলে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যুদ্ধ চললেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পালনে যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় দেশটির পার্লামেণ্টের স্পীকার মোহাম্মদ আল-লাহাম নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে অভিযোগ করেন, বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা সিরিয়ার গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের ক্ষতিসাধন করতে সচেষ্ট।

    জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি মুন সিরিয়ায় পরিকল্পিত নির্বাচন না অনুষ্ঠান করতে অনুরোধ করেছেন। তাঁর একজন মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, "এমন সঙ্কটের সময় নির্বাচন হলে তা রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।"

    সরকারী সেনাবাহিনী গত কয়েক সপ্তায় বিদ্রোহীদের কব্জায় থাকা কয়েকটি গ্রাম ও শহরে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। কয়েকদিন আগে প্রেসিডেণ্ট আসাদকে ক্রিশ্চান অধ্যুষিত প্রাচীন মালৌলা শহর পরিদর্শন করতে দেখা গিয়েছে - যেটি সম্প্রতি বিদ্রোহীদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে সরকারী সেনাবাহিনী।

    এদিকে নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝে ইসলামবাদী বিদ্রোহীরা নিশ্চিত করেছে তারা ক্ষেপণাস্ত্র-সহ অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র পেয়েছে। বহু বিদ্রোহী দলের মধ্যে একটি হাজম মুভমেণ্টের প্রতিনিধি হামজা শিমালির বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পশ্চিমা রাষ্ট্র-সহ কয়েকটি মিত্র দেশের কাছ থেকে নতুন অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে। তিনি আরও জানান, অস্ত্রের চালান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

    তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এ-পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে মনে করে জাতিসঙ্ঘ। প্রধানতঃ সুন্নি ইসলামী বিদ্রোহীরা শিয়া প্রেসিডেণ্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাতে যুদ্ধ করছে, যাদেরকে সমর্থন করতে যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতার-সৌদি আরবের মতো সুন্নি প্রধান দেশগুলো। অন্যদিকে আসাদের সমর্থনে সক্রিয় রয়েছে শিয়া প্রধান ইরান, মিত্র রাশিয়া ও পরোক্ষভাবে চীন। স্মরণ করা যেতে পারে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছুদিন পরই বিদ্রোহীদের দাবি-মতো সংবিধানে পরিবর্তন এনে সেটি চূড়ান্ত করতে দেশটিতে গণভৌট অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন