• সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া
    kerry_lavrov.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - লণ্ডন, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬, শুক্রবারঃ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইতি টানার প্রক্রিয়া শুরু করতে নতুন একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সরকারী বিমানবাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকবে, জিহাদীদের লক্ষ্য করে রুশ-মার্কিন যৌথ বিমান-হামলা চলবে এবং আলেপ্পোয় মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে।

    জাতিসঙ্ঘ এ-সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। সিরিয়ায় সংস্থাটির প্রতিনিধি ষ্টাফান দে মিস্রাতা বলেছেন, ত্রান পৌঁছাতে জাতিসঙ্ঘ সর্বশক্তি নিয়োগ করবে।

    সুইৎজারল্যাণ্ডের জিনিভায় দীর্ঘ তেরো ঘণ্টা আলোচনার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভ্রভ শান্তির ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছান। আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা সাংবাদিকদেরকে জানান যে আগামী সোমবার সূর্যাস্ত থেকে শুরু হবে এ-যুদ্ধবিরতি।

    মাত্র নয় মাসে আগেও অনুরূপ একটি যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সম্মত হয়েছিলো, তবে সিরিয়ার সরকার ও বিরোধীরা তা পুরোপুরি মেনে না-চলায় সে-বিরতি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়নি।

    তবে যুদ্ধরত পক্ষগুলো এবার আগের চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতিশীল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহীরা এ-বিরতি মেনে চলতে রাজী আছে বলে জানিয়েছে যথাক্রমে রুশ ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তদুপরি, 'রাজনৈতিক' সমাধানকেই সিরিয়ায় শান্তি ফিরে আনার একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন জন কেরি, যা থেকে স্পষ্ট হয়েছে 'আসাদকে বিদায় নিতেই হবে' এমন দাবী থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভ্রভ বলেন, "সহিংসতা বন্ধের সাত দিন পর স্থায়ীতর শান্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া মিলে একটি 'যৌথ বাস্তবায়ন কেন্দ্র' খুলবে" যার কাজ হবে আইসিস ও আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে আঘাত করা। তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুশ-মার্কিন যৌথবাহিনী ছাড়া আর কেউ বিমান হামলা করতে পারবে না, তবে সিরিয়ার অন্যান্য অংশে সরকারী বাহিনী কার্যকর থাকবে।

    আলোচ্য এ-শান্তি পরিকল্পনা সফল হলে সিরিয়া গৃহযুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীই। 

    ২০১১ সাল থেকে ভূমধ্যসাগরীয় এই প্রাচীন দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। একপক্ষে রয়েছে শিয়া প্রেসিডেণ্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত সরকারী সেনাবাহিনী এবং অপর পক্ষে রয়েছে মূলত সুন্নী মতাবলম্বী অনেকগুলো সশস্ত্র দল, আইসিস ও আল-কায়েদার মতো জিহাদী সংগঠন। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে জিহাদীদের বিরুদ্ধে লড়ছে কুর্দী গেরিলারা, যারা সরকারী বাহিনীকেও মোকাবেলা করছে অনেক স্থানে। সম্প্রতি প্রতিবেশী তুরষ্কের সেনা ও বিমানবাহিনী সিরিয়ায় প্রবেশ করে কুর্দীদেরকে সীমান্ত এলাকা থেকে হটিয়ে দিতে চেষ্টা করছে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন