• সিরিয়ায় লিবিয়াঃ 'আল-কায়েদা যোদ্ধারা' লড়ছে বাশার আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে
    libya_alqaeda_coming_to_syria_seen_on_bbc.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৬ জুলাই ২০১২, শুক্রবারঃ  ইরাকের আল-কায়েদা গেরিলা-যোদ্ধারা সিরিয়ায় সরকার-বিরোধী বিদ্রোহীদের পক্ষ হয়ে লড়াই করছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী হোশায়ার যেবারি। গতকাল তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে (ইরাকের) আল-কায়েদা যোদ্ধারা ইরাক-সিরিয়া সীমান্ত অতিক্রম করে (সিরিয়ার) গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে'। সিরিয়ায় গত ১৬ মাস যাবত সরকার বিরোধী সশস্ত্র-বিদ্রোহ চলছে যাকে সিরিয়া পশ্চিমা-মদদপুষ্ট বলে অভিযোগ করে আসছে।

    গত বছর সিরিয়ার প্রতিবেশী লিবিয়া জনরাষ্ট্রে অনুরূপ বিদ্রোহ শুরু হলে, দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বিদ্রোহীদেরকে আল-কায়েদার সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করেন। কিন্তু পশ্চিমা রাষ্ট্র ও সংবাদ-মাধ্যমগুলো তাঁর এ-বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে। ব্যাপক গণ-সমর্থন থাকার পরও পরবর্তীতে স্থলে পশ্চিমা অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা-পুষ্ট আল-কায়েদা যোদ্ধা ও জলে ও আকাশে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর দীর্ঘ বিমান-হামলার মাধ্যমে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত ও হত্যা করা হয়। শুরুতে অস্বীকার করলেও যুদ্ধ-বিজয় ঘোষণা করার পর বিবিসি'র মতো পশ্চিমা সংবাদ-মাধ্যমগুলো লিবিয়া-যুদ্ধে আল-কায়েদার সংশ্লিষ্টতার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করে।

    এ-বছরের ফেব্রুয়ারীতে আল-কায়েদার নেতা আইমান আল-যাওয়াহ্‌রি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত আল-কায়েদা নেটওয়ার্কের যোদ্ধাদের সিরিয়ায় সরকার বিরোধী যুদ্ধে যোগ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দেয়। তবে তার আগেও সিরিয়ায় বিদ্রোহের শুরু থেকেই লিবিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে আগত ইসলামবাদী সংগঠনটির ক্যাডারদের উপস্থিতির খবর প্রকাশিত হতে শুরু করে। বিভিন্ন শহরে সামরিক বাহিনীর উপর হামলা, বেসামরিক জনগণের ওপর বোমা-হামলা এবং ব্যস্ত নগরে আত্মঘাতী বোমা হামলার মতো ঘটনার জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করা হয়।

    সিরিয়ায় আল-কায়েদার সামরিক সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে পশ্চিমা সংবাদ-মাধ্যমগুলোতে সীমিত আকারে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমা দেশগুলো এ-সম্পর্কে কিছু বলছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে যে, আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যে-কোন দেশে যে-কোন সময়ে অনির্ধারিত সামরিক আক্রমণ পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র-জোট মধ্যপ্রাচ্যে কেন সেই আল-কায়েদাকেই সহায়তা করছে?

    ইতিহাসবিদরা বলছেন, এ-ঘটনা একেবারে নতুন নয়। আফগানিস্তানে ৩ দশক আগে সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ইসলামবাদী তালেবানরা তাকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে বিদ্রোহ করে। সে-সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন বিদ্রোহ-কবলিত দেশটিকে সহায়তা দিতে সামরিক বাহিনী পাঠায়। অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্র তালেবানকে বিপুল অর্থ, প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে। আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন-লাদেনকে আফগানিস্তানে পাঠানো হয়। অবশেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন সেনা প্রত্যাহার করে নেয় এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট ও আল-কায়েদার সহায়তাপুষ্ট তালেবানরা দেশটির ক্ষমতা দখল করে।

    গাদ্দাফিকে হত্যা করার পর লিবিয়াতেও অনুরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকার-বিরোধী বিদ্রোহের কেন্দ্র বলে পরিচিত ইসলামবাদীদের প্রাদুর্ভাব-সম্পন্ন পূর্বাঞ্চলীয় বেনগাজিতে আল-কায়েদার পতাকা উত্থিত হয়েছে। সেক্যুলার আইন ও রাষ্ট্রব্যবস্থা উচ্ছেদ করে সেখানে চালু হয়েছে শরিয়া আইন। রাজধানী ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আল-কায়েদা কমাণ্ডারের হাতে। যুদ্ধ-পূর্বে কোনরকম বৈদেশিক ঋণ না-থাকা লিবিয়া এখন বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ চাইছে। যুদ্ধ চলাকালেই বিদ্রোহীরা ফ্রান্সের সাথে চুক্তি করেছে যে লিবিয়ার ৩৫% তেলের নিয়ন্ত্রণ ফরাসী তেল-কোম্পানীগুলো পাবে।

    দৃশ্যতঃ সিরিয়ার পরিস্থিতিও লিবিয়ার মতোই। ইসলামবাদী সন্ত্রাসীরা সরকার-বিরোধী সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে শহরে-শহরে। পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো পক্ষ নিয়েছে বিদ্রোহীদের - অস্ত্র, অর্থ ও কুটনৈতিক সমর্থন দিয়ে সহায়তা করছে। সিরিয়ায় নৌ-ঘাঁটি থাকা রাশিয়া অবশ্য সিরিয়ার পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছে, সাথে যোগ দিয়েছে চীন। তবে শেষ পর্যন্ত চীন-রাশিয়া সিরিয়ার পাশে থাকবে কি-না তা এখনও পরিষ্কার নয়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন