• সিরিয়া গৃহযুদ্ধঃ জাতিসঙ্ঘ বলছে বিদ্রোহীরা যুদ্ধাপরাধী, যুক্তরাষ্ট্র চায় নতুন বিদ্রোহী-নেতৃত্ব
    hillary_clinton.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২ নভেম্বর ২০১২, শুক্রবারঃ ইন্টারনেটে প্রকাশিত একটি ভিডিওচিত্রে দেখা গিয়েছে যে, 'সুন্নি বিদ্রোহীরা যুদ্ধবন্দী কিছু সরকারী সেনাকে নিরস্ত্র অবস্থায় গুলি করে হত্যা করছে'। গতকাল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর সারাকেব দখল করার পর বিদ্রোহীরা এ-কর্ম করেছে। জাতিসঙ্ঘ এ-ঘটনাকে 'যুদ্ধাপরাধ' বলে আখ্যায়িত করেছে। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নিন্দা জানিয়েছে এ-ধরণের 'ঠাণ্ডা মাথায় হত্যার'।

    সিরিয়ার সরকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, সারাকেব থেকে সাময়িকভাবে সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ-সংস্থাগুলো বলেছে, সিরিয়ার বিমানবাহিনী গতকাল সারাদেশের বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তুরষ্ক, কাতার, সৌদি আরব ইত্যাদি সুন্নি-প্রধান দেশ থেকে অর্থ, অস্ত্র ও রসদের যোগান পেলেও সরকারী সৈন্যদের সাথে লড়াইয়ে পেরে উঠছে না বিদ্রোহীরা। স্পষ্টতঃ সরকারী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী থাকায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বিদোহীদের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

    এদিকে আল-আসাদ-বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ব্যর্থতায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করা বিদ্রোহী যোদ্ধাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ হবার জন্য দায়ী করেছেন বিদ্রোহীদের সংগঠন সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল (এসএনসি)-কে। মার্কিন এ-মন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সিরিয়ার বিদ্রোহী নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা হবে।

    এসএনসি ক্লিন্টনের এ-অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, 'তারা যথাসাধ্য করে যাচ্ছে'। 'আমাদের সদস্য-সংখ্যা ২৮০ থেকে ৪২০-এ উন্নীত হয়েছে', জানিয়েছে সংগঠনটির একজন মুখপাত্র। উল্লেখ্যঃ এসএনসি'র অনেক সদস্য ইউরোপে, প্রধানত ফ্রান্সে বসবাস করেন, যাঁদের মধ্যে অনেকে গত ২০ বছরের মধ্যে একবারও সিরিয়ায় যাননি।

    প্রসঙ্গতঃ লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করে হত্যা করার পূর্বে লিবিয়াতেও এসএনসি'র অনুরূপ ন্যাশলান ট্রান্‌জিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি) গঠিত হয়েছিল, যাকে যুক্তরাষ্ট, যুক্তরাজ্য ফ্রান্স, কাতার, সৌদি আরব ইত্যাদি রাষ্ট্র প্রতক্ষ্য সমর্থন ও সাহায্য করেছে। পরবর্তীতে এনটিসির সমর্থনে জাতিসঙ্ঘকে ব্যবহার করে ন্যাটো লিবিয়ায় বিমান হামলার মাধ্যমে বিদ্রোহীদের বিজয় নিশ্চিত করে।

    ইউকেবেঙ্গলি মনে করছে, আগামি কয়েক সপ্তার মধ্যেই বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব আনতে পারে তাদের পশ্চিমা ও আরব মদদ-দাতারা। লিবিয়ার উদাহরণ স্মরণে নিয়ে অনুমান করা যায়, বিদ্রোহীরা একটি 'অন্তর্বর্তীকালীন' সরকারও গঠন করা হতে পারে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন