• সিরিয়া গৃহযুদ্ধঃ প্রেসিডেন্ট আসাদের সমর্থনে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানদের অস্ত্র-ধারণ
    syria_christians_side_with_assad.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১২, বৃহস্পতিবারঃ  সুন্নি চরমপন্থীদের হাতে মাতৃভূমির নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া ঠেকাতে এবার সরকারের সাথে যোগ দিয়েছে সিরিয়ার সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়। ব্রিটেইনের ডেইলি টেলিগ্রাফ আজ জানিয়েছে এ-খবর।

    সিরিয়ার খ্রিষ্টান সম্প্রদায় এতোদিন চেষ্টা করে আসছিলো গৃহযুদ্ধে না জড়িয়ে পড়তে। সময়ে-সময়ে তারা গীর্জা রক্ষার্থে সংঘবদ্ধ হয়েছে বটে, তবে অস্ত্র হাতে ইতিপূর্বে সরকারী-সেনা বা সুন্নী ইসলামবাদী দেশি-বিদেশি সরকার-বিরোধীদের সাথে লড়েনি।

    ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র-দেশগুলোর হামলা ও সাদ্দাম সরকারের পতনের পরে সে-দেশের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা ব্যাপক মাত্রায় নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদির শিকার হন। সে-ইতিহাস স্মরণে রেখে সিরিয়ার খ্রিষ্টানরা আসাদ সরকারের পতন ঠেকাতে এবার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে নেমেছেন।

    গত ৬ সপ্তাহ ধরে আলেপ্পোর খ্রিষ্টান মিলিশিয়ারা সরকারী সেনাদের পাশাপাশি বিদ্রোহী 'ফ্রী সিরিয়ান আর্মি'র বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তারা জানিয়েছে, আল-জুদাইদাত শহরের ফারহাত স্কোয়ারে ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন, আফগানিস্তান ইত্যাদি দেশ থেকে আসা বিদ্রোহী আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধারা লুকিয়ে ছিলো। 'চার্চ কমিটী'র মিলিশিয়ারা সেখানে সরকারী সেনাদের আগেই পৌঁছে গিয়ে তাদের হটিয়ে দেয়।

    কিন্তু নিকটবর্তী শহরগুলোতে বিদ্রোহীরা এখনও অবস্থান করছে। 'চার্চ কমিটী' বলছে, বিদ্রোহীরা স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করে পাহারা বসিয়েছে স্থানগুলোতে, ফলে সেখানে লড়াইয়ে সুবিধা করতে পারছে না মিলিশিয়ারা।

    সিরিয়ার সুন্নি আরব মুসলমানরা সংখ্যায় বেশি হলেও প্রেসিডেন্ট শিয়া ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং দেশটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে সেক্যুলার মূল্যবোধের চর্চা বলবৎ রয়েছে। সৌদি আরব ও কাতারের মতো কট্টর সুন্নি অধ্যুষিত দেশগুলোর একনায়ক আমির বা বাদশাহ্‌ ও যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর সাহায্য নিয়ে সুন্নি ইসলামবাদীরা সিরিয়ার সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।

    জাতিসঙ্ঘের মতে চলমান গৃহযুদ্ধে এ-পর্যন্ত সিরিয়ার প্রায় ২০,০০০ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, গৃহহীন হয়েছেন আড়াই লাখেরও বেশি। গত বছর একই প্রক্রিয়ায় ফ্রান্স, ব্রিটেইন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে  ও ন্যাটোর তত্ত্বাবধানে প্রতিবেশি লিবিয়ায় অনুরুপ বিদ্রোহীদের মাধ্যমে দেশটির নেতা মুয়াম্মাগ গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত ও বিনা-বিচারে হত্যা করা হয়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন