• সিরিয়া বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের বিরোধিতা করলো রাশিয়া
    Russain-UN-Ambassador-Churkin.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৮ জানুয়ারী ২০১২২, শনিবারঃ  সিরিয়ার চলমান সঙ্কট ‘নিরসনের’ লক্ষ্যে  জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মরক্কোর উপস্থাপিত আরব-ইউরোপীয় খসড়া-প্রস্তাব, যেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসদকে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুপারিশ করা হয়েছে, পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশান ফেডারেশনের বিরোধিতার ফলে এগুতে পারেনি।

    সিরিয়ার অবনতশীল পরিস্থিতির ব্যাপারে খসড়া প্রস্তাবে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশের সাথে-সাথে ‘মানবধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার গুরুতর ও ব্যাপক লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলে আসাদ সরকারের নিন্দা করা। প্রস্তাবটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘রিজিম চেইঞ্জ’ শাসক পরিবর্তনের সুপারিশ। সুপারিশে একটি ‘ট্র্যানজিশন্যাল’ অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে প্রেসিডেন্ট আসাদের ক্ষমতা হস্তান্তরে কথা বলা হয়।

    রুশ সংবাদ-মাধ্যম আরটি জানাচ্ছে, জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ভিতালি চুর্কিন আরব-ইউরোপীয় এই খসড়া প্রস্তাবের প্রতি ‘গভীর হতাশা’ প্রকাশ করে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন সিরিয়ার মধ্যকার দ্বন্দ্বের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কোনো বহিঃস্থ সমাধান চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়। রুশ দূত সিরিয়ার উপর যে-কোনো ধরনের বহিঃস্থ শক্তি প্রয়োগ ও অস্ত্র-নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও বিরোধিতা করেন।

    চুর্কিন বলেন, ‘এই খসড়া প্রস্তাব পরিস্থিতির সমাধানের ভিত্তি হতে পারে না, তবে আমরা একত্রে কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, 'এই প্রস্তাবে শুধু এমনই রেখাই টানা হয়নি যা রাশিয়ার অতিক্রম করা সম্ভব হয়, তার সাথে নতুন উপাদানও যুক্ত করা হয়েছে, যা মস্কৌর পক্ষে নীতিগত কারণেই গ্রহণ করা সম্ভব নয়।'

    উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরেও চীনের সাথে মিলে রাশিয়া জাতিসংঘের আরও একটি খসড়া প্রস্তাব ভিটো প্রয়োগ করে পরাস্ত করে। পরবর্তীতে রাশিয়া একটি বিকল্প প্রস্তাব আনলে পশ্চিমা শক্তিগুলো তা প্রত্যাখান করে। দৃশ্যতঃ প্রেসিডেন্ট আসাদের ক্ষমতায় থাকা-না-থাকার প্রশ্নটিই মূল বিষয় হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট আসাদের ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাবটি এসেছে মূলতঃ আরব লীগ থেকে। লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের প্রতি অন্যান্য সদস্য-দেশগুলোর নেতৃত্বের বিরোপ মনোভাবই এর কারণ বলে ধারণা করা হয়।

    প্রেসিডেন্ট আসাদ ইতোপূর্বে আরব লীগের এ-প্রস্তাবকে ‘প্রশ্নই উঠে না’ প্রত্যাখান করে বলেন, বাইরের শক্তির ‘ষড়যন্ত্র’ ও দেশের অভ্যন্তরে ইসলামবাদী চরমপন্থীদের প্রতি তাদের দেয়া ইন্ধনের কারণে সিরিয়াতে সমস্যা তৈরী হচ্ছে। তিনি এই ‘ষড়যন্ত্র’কে ব্যর্থ করে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদ্রোহীদের প্রতি সরকার-ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ গ্রহণ করার আহবান জানিয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে একজন বিশ্লেষক ও ব্লগার কার্ল স্যারোকে উদ্ধৃত করে আরটি লিখেছে, ‘বাইরের সকল শক্তির যা করা উচিত, তা হচ্ছে সিরিয়ার জনগণের আকাঙ্খা আপনগতিতে বিকশিত হতে দেবার জন্য (সিরিয়ার অভ্যন্তরীন) দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকা। স্যারো মনে করেন, ‘বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ‘বর্তমানের প্রজ্জ্বলিত আগুনের মধ্যে তেল ঢালছে’।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন