• সিরীয় বিদ্রোহীদের মধ্যে ইসলামবাদীদের আধিপত্যঃ মার্কিন ও ব্রিটিশ সহায়তা বন্ধের ঘোষণা
    syria_islamist_rebel_drive_fsa_out.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১১ ডিসেম্বর ২০১৩, বুধবারঃ প্রেসিডেণ্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাতের প্রচেষ্টায় ৩৩ মাস ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের মধ্যে স্পষ্ট সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে সুন্নি ইসলামবাদীরা। সম্প্রতি ৭টি সুন্নি গোষ্ঠী একটি একক ইসলামী ফ্রণ্টের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরাসরি পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট বিদ্রোহী-সংঘ ফ্রী সিরিয়ান আর্মি (এফএসএ)-কে চ্যালেইঞ্জ করলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বিদ্রোহীদের প্রতি তাদের সহায়তা স্থগিত করা ঘোষণা দিয়েছে।

    এতো দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো আসাদের বিরুদ্ধে ও বিদ্রোহীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলে আসছিলো নগণ্য সংখ্যক ইসলামবাদী থাকলেও ফ্রী সিরিয়ান আর্মিই আসাদের বিরুদ্ধে মূল শক্তি। তবে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, যুদ্ধের মাঠে এফএসএ নয়, আল-কায়েদার সাথে সংশ্লিষ্ট সুন্নি দলগুলোই অস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধের কৌশল ও ঝুঁকিপূর্ণ লড়াইয়ে সাহসিকতা প্রদর্শনে এগিয়ে রয়েছে।

    গত সপ্তায় ইসলামিক ফ্রণ্ট ঘোষণা দেয়, তারা এফএসএ-র অধীনে থাকা সামরিক নেতৃত্ব থেকে নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর চারদিন পর তারা এফএসএ'র যোদ্ধাদেরকে সিরিয়ায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলস্থ বাব আল-হাওয়ার ঘাঁটিগুলো থেকে তাড়িয়ে দেয়। পশ্চিমা সমর্থিত ফ্রী সিরিয়ান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও তারা কব্জা করে এ-সময়। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক বিদ্রোহী-সমর্থক একটি এনজিও জানিয়েছে এ-সকল অস্ত্রের মধ্যে অনেকগুলো বিমান ও ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী রকেটও রয়েছে।

    এ-পরিস্থিতিতে আজ তুরস্কস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যন্ত্রপাতির অবস্থা নিরূপণ করতে বাব আল-হাওয়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার বিদ্রোহীদেরকে প্রকাশ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো সেপ্টেম্বর মাসে। অবশ্য বিদ্রোহীদেরকে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া সহায়তার বহু সংবাদ ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছিলো আরব ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে।

    ব্রিটেইনের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন যে সিরিয়ার বিদ্রোহীদেরকে সহায়তা দেয়া অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারী তথ্য অনুযায়ী দেশটি সিরিয়ার বিদ্রোহীদেরকে ২০ মিলিয়ন পাউণ্ডেরও বেশি সহায়তা দিচ্ছে।

    গত সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার কুটনৈতিক মধ্যস্থতায় সিরিয়ায় মার্কিন সম্ভাব্য হামলা এড়ানোর পর থেকে সরকারী সেনাবাহিনী নতুন উদ্যমে যুদ্ধ শুরু করে। এর ফলে গত আড়াই মাসে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে সমর্থ হয় তারা। রাশিয়ার অব্যাহত চাপে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে পশ্চিমা-সমর্থিত বিদ্রোহীরা শান্তি আলোচনায় যোগ দিবে বলে জানালে ইসলামবাদী অংশের সাথে তাদের বিরোধ শুরু হয় - যারা কোন ধরণের আলোচনা নয় আসাদকে উৎখাত করে ইসলামী রাষ্ট্র স্থাপণে বদ্ধপরিকর। বিদ্রোহীদের মধ্যে অন্তর্কলহে সরকারী সেনাদের যুদ্ধ-প্রচেষ্টা সহজতর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন