• 'সুন্নী' জিহাদীদের দখলে ইরাকের মসুল ও তিক্রিত শহরঃ পাঁচ লাখ নাগরিক গৃহহারা
    iraq_isis_captures_mosul_tikrit.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১১ জুন ২০১৪, বুধবারঃ গত তিন দিনে ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ দু'টো বড়ো শহর মসুল ও তিক্রিত দখল করে নিয়েছে সুন্নী জিহাদী দল ইসলামী স্টেইট ইন ইরাক এ্যাণ্ড সিরিয়া (আইসিআইএস)। মসুল থেকে অন্ততঃ ৫০ জন তুর্কী কুটনীতিক ও দূতাবাস-কর্মীকে আটক করেছে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া এ-দলটি। খবর জানিয়েছে রয়টার্স, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য ইণ্ডিপেণ্ডেণ্ট।

    ৬ জুন ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল আক্রমণ  করে আইসিআইএস। মাত্র ৩ দিনের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ-শহরটি দখল করে নেয় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জিহাদী যোদ্দারা। প্রশাসনিক ভবন, বিমানবন্দর ও থানার মত স্থাপনাগুলোর পতন ঘটার মধ্য দিয়ে এ-শহরটি হাতছাড়া হয় শিয়া প্রধানমন্ত্রী নূর-ই-মালিকীর সরকারের। এ-সময় শহরটিতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং অন্ততঃ পাঁচ লাখ নাগরিক প্রাণভয়ে গৃহ ত্যাগ করে - যাদের মধ্যে অনেক সরকারী সৈন্য ও পুলিসও ছিলো।

    আজ দ্রুত গতিতে দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে তিক্রিত শহরও দখল করেছে আইসিআইএস।এর মধ্য দিয়ে ইরাকের মোট ভূমির প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এখন এ-দলটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রয়টার্স জানাচ্ছে, তিক্রিতের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রিয়াদে অন্ততঃ ১০ জন সরকারী নিরাপত্তারক্ষীকে হত্যা করেছে দলটি।

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নূর-ই-মালিকী 'জিহাদীদেরকে প্রতিরোধ করবেন' বলে প্রতিজ্ঞা করে দেশে ৩০ দিনের জরুরী অবস্থা জারির অনুমতি চেয়েছেন সংসদে। জিহাদীদের আক্রমণের সময় মসুলে বিশৃঙ্খলা ও কিছু নিরাপত্তারক্ষীর পলায়নের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "আমরা জানি কারা এ-ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে।" তিনি আক্রান্ত শহরগুলোর বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "[সন্ত্রাসীদের কাছে ইরাক] তুলে দেবেন না। আমরা আপনাদের সাথে রয়েছি, সেনাবাহিনী আপনাদের সাথে রয়েছে। এ-লড়াই যদি অনেক দীর্ঘও হয় তবুও আমরা আপনাদেরকে হতাশ করবো না।"

    গত ডিসেম্বরে আইসিআইএস কেন্দ্রীয় ফালুজাহ শহর দখল করে জানুয়ারীতে সেটিকে 'ইসলামী রাষ্ট্র' হিসেবে ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী মালিকী তখন থেকেই বিদ্রোহ দমনের অঙ্গীকার করে এলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর অনুগত সেনারা শহরটি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। ফলে মসুল ও তিক্রিতে তাঁর প্রতিরোধ কতোটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশ্লেষকদের।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন