• সোমালী সশস্ত্র গ্রুপ আল-শাবাবের হুঁশিয়ারিঃ আমরা আসছি সাবধান

    সোমালিয়াতে ইথিওপিয়ান বাহিনীর সাথে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ‘আল-শাবাব’ নিজ-দেশের সীমানা পেরিয়ে যুদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। গ্রুপটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা মাত্রই তারা এ-ব্যাপারে অগ্রসর হবে।

    ২০০১ সালে গঠিত হওয়া আল-শাবাব গ্রুপের নেতা আবু মনসুর সংবাদ-মাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা নিপীড়ন আর ঔপেনিবেশিকতা থেকে আমাদের দেশকে মুক্ত করার জন্য যুদ্ধ করছি, আমরা শত্রু দের আক্রমণ থেকে নিজেদেরকে রক্ষার চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও জানান, এ-যুদ্ধে জয়লাভ করলেও পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হওয়া নিপীড়নের কারণে তারা তাদের যুদ্ধ ঐসমস্ত স্থানে বিস্তৃত করবেন।

    আল-শাবাব - যার অর্থ হচ্ছে তারুণ্য - গড় উঠেছে এক সময়কার সোমালিয়ার রাজধানী-সহ বৃহদাংশ নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি ইসলামিক কৌর্টস ইউনিয়ন থেকে ভেঙ্গে এসে। ২০০৬ সালে সোমালিয়ার সরকারী বাহিনী ও ইথিওপীয়ান বাহিনীর আক্রমণে ইসলামিক কৌর্টের হটে যাবার পর থেকে আল-শাবাব নতুন শক্তি হিসেবে তার প্রভাব বাড়াতে থাকে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বাইদোয়া ভিত্তিক সশস্ত্র গ্রুপ আল-শাবাব বর্তমানে সোমালিয়ার মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বিরাট এলাকার নিয়ন্ত্রণ অধিকার করে সরকারের উপর উত্তরোত্তর চাপ বৃদ্ধি করছে। রাজধানী মুগাদিসুর নিকবর্তী শহর মার্কায় তৎপর সশস্ত্র যোদ্ধা ইব্রাহিম আলমাকদিস বলেন, 'আমরা বুশ-সহ সকল প্রতিপক্ষকে আমাদের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করতে চাই।' আল-শাবাবের উদ্দেশ্য কী তা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন ‘আমরা আলাস্কা ও চিলি থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, রাশিয়া, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও আইসল্যান্ড পর্যন্ত সকল স্থানে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠিত করবো।' সংশ্লিষ্ট সকলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আলমাকদিস বলেন, 'আমরা আসছি, সাবধান।’

    আল-শাবাবের কর্মকাণ্ডের প্রতি বিদেশী যোদ্ধারা যুক্ত হচ্ছেন বলে তথ্য দিয়ে গ্রুপটি নেতা আবু মনসুর অন্যান্যদেরকেও যুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। আল-শাবাবের সদস্য হতে হলে যদিও মুসলমান ও সোমালি হওয়া জরুরী শর্ত, তবে মনসুর বলেন, ‘আমাদের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য আমরা বিশ্বের যেকোনো স্থানের মুসলিমকে স্বাগত জানাই এবং এর জন্যে আমরা তাদেরকে আমাদের কণ্যাদান জমির অংশও দান করতে প্রস্তুত আছি।’

    সোমালিয়াতে যুদ্ধের কারণে প্রায় এক মিলিয়ন লোক বাস্তুহারা হয়েছে আর এক তৃতীয়াংশ লোক জরুরী খাদ্য সহায়তার উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলে জ্বালানী তেল ছিনতাই সহ জলদস্যূতা হার বেড়ে গিয়েছে।

    লন্ডনঃ ১৯ ডিসেম্বর ২০০৮

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন