• স্নৌডেন এখনও মস্কৌ বিমানবন্দরেঃ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে না রাশিয়া
    russia_moscow_airport.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৫ জুন ২০১৩, মঙ্গলবারঃ  রাশিয়ার প্রেসিডেণ্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন গুপ্তচর এডওয়ার্ড স্নৌডেন এখনও মস্কৌ বিমানবন্দরেই রয়েছেন। তাঁকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অব্যাহত চাপ উপেক্ষা করে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাশিয়ার এক্সট্রাডাইশন চুক্তি নেই।

    এর আগে, আজই রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই ল্যাভ্রভ সাংবাদিকদেরকে বলেছেন যে, স্নৌডেন রাশিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করেননি। তিনিও মার্কিন চাপের নিন্দা করেন। তবে, স্নৌডেনের বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় অবস্থান করাকে যে 'সীমান্ত অতিক্রম না করা' বলে ধরা হচ্ছে, তিনি তা স্পষ্ট করে  বলেননি। ফলে দিনভর সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোতে জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে স্নৌডেনের বর্তমান অবস্থান নিয়ে।

    যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার স্নৌডেনের আমেরিকান পাসপৌর্ট বাতিল করে। সেসময় তিনি হংকং-এ অবস্থান করছিলেন। ফলে হংকং ত্যাগ করতে তাকে বেকায়দায় পড়তে হয়। এ-অবস্থায় তাকে একটি সাময়িক শরণার্থী-পত্র দেয় ইকুয়াডর, যা নিয়ে তিনি মস্কৌর বিমানে চড়েন। মার্কিন গোপন তথ্য ফাঁস করে সুপরিচিত হওয়া ওয়েবসাইট উইকিলীক্‌স ও এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জ সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে স্নৌডেনকে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্রমাগত চাপ বাড়া অবস্থায় মুখ খুলেছেন ফিনল্যাণ্ডে এক রাষ্ট্রীয় সফরে থাকা প্রেসিডেণ্ট পুতিন। 'রাশিয়া স্নৌডেনকে সহায়তা করছে' যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগকে তিনি 'ফালতু' বলে উড়িয়ে দেন। 'পাসপৌর্ট না থাকায় রাশিয়ার উচিত স্নৌডেনকে আইনগতভাবেই বহিষ্কার করা' - যুক্তরাষ্ট্রের এমন পরামর্শ প্রসঙ্গে পুতিন জানান, স্নৌডেন এখনও বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকা ত্যাগ করেননি। সুতরাং আইনতঃ তাঁর রাশিয়ার ভিসার প্রয়োজন নেই। তিনি মুক্তভাবে অন্য যেকোন দেশে চলে যেতে পারবেন।

    যুক্তরাষ্ট্র সর্বতোভাবে চেষ্টা করছে এডওয়ার্ড স্নৌডেনকে দেশে ফিরিয়ে নিতে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ভিনদেশের হয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিতে লিপ্ত থাকার ও বেআইনীভাবে গোপন সরকারী তথ্য চুরি ও প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এ-অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

    প্রাণ বাঁচাতে স্নৌডেন ইকুয়াডরে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। তবে উইকিলীক্‌স জানিয়েছে, আইসল্যাণ্ড ও অন্যান্য দেশেও স্নৌডেনের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। নরওয়ের রাজনোইতিক দল 'পাইরেট পার্টি' জানিয়েছে, তাদের সহায়তায় স্নৌডেনের নরওয়ের মাটি হয়ে আইসল্যাণ্ডে যাওয়ার কথা ছিলো।

    ইকুয়াডর এখনও স্নৌডেনের আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে মঞ্জুর করেনি কিংবা প্রত্যাখ্যানও করেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইকুয়াডর কিংবা তৃতীয় কোন দেশে তাঁর রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের উপরে অনেকাংশে নির্ভর করবে পরবর্তী ঘটনাবলি।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন