• 'স্বাধীনতার পথে' কুর্দিস্তানঃ ইরাক সীমান্তে সৌদি আরবের সৈন্য
    iraq_kurdistan_map.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৩ জুলাই ২০১৪, বৃহস্পতিবারঃ দীর্ঘদিন ধরে লালিত স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণের পথে এগুচ্ছে ইরাকী কুর্দীরা। উত্তর ইরাকের স্বায়ত্বশাসিত এ-প্রদেশটির প্রেসিডেণ্ট আজ স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভৌট আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে। অন্যদিকে ইরাকের পশ্চিম-সীমান্তে অন্ততঃ ত্রিশ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে সৌদি আরব। খবর আল-আরাবিয়া, আল-জাজিরা, এসৌসিয়েটেড প্রেস, রুদৌ মিডিয়া ও অন্যান্য সংবাদ সংস্থার।

    ইরাকী কুর্দিস্তান প্রদেশের প্রেসিডেণ্ট মাসুদ বার্জানি আজ আঞ্চলিক পার্লামেণ্টকে গণভৌটের তারিখ নির্ধারণ করতে বলেছেন - জানিয়েছে স্থানীয় কুর্দী সংবাদ মাধ্যম রুদৌ। পার্লামেণ্টে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, "আমাদের স্বাধীনতায় অনেক দেশের সমর্থন রয়েছে; যারা সমর্থন করছে না, তারা বিরোধিতাও করছে না।" তিনি অনুরোধ করেন, "যতো শীঘ্র সম্ভব [আঞ্চলিক] নির্বাচনে কমিশনের উপরে একটি বিল পাস করার ব্যবস্থা করুন।"

    এদিকে স্বাধীনতার প্রচেষ্টায় যেনো যুক্তরাষ্ট্র বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন কুর্দিস্তানের নেতারা। এর অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরির সাথে সাক্ষাত করতে কুর্দীস্তানের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা এখন ওয়াশিংটনে।

    ওয়াশিংটন ইন্‌স্টিটিউট ফর নেয়ার ঈস্ট পলিসিতে বক্তৃতা করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেণ্টের চীফ অফ স্টাফ ফুয়াদ হুসেইন বলেন, "আমি যখন [জাতিগত] আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের কথা বলছি, আমি বুঝাচ্ছি যে কুর্দীরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেতে পারে"। তবে তিনি সেই আরও বলেন, "ইরাকে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে একটি ফেডারেশনের সম্পর্ক থাকতে পারে।"

    ইরাকের অংশ বিশেষ দখল করে সুন্নী জিহাদী দল আইসিস ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠার পর দেশটিতে যে-রাজনৈতিক ও সামরিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র 'এক ইরাক' নীতি ঘোষণা করেছে। ফলে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইরাকের শিয়া-সুন্নী লাইনে বিভক্তি কিংবা কুর্দীদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ দৃশ্যতঃ বিরোধী। উল্লেখ্য, শিয়া-সুন্নী-কুর্দী সকলের অংশগ্রহণে ইরাকে একটি জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার যে-আহবান জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরাকের প্রেসিডেণ্ট নূর-ই-মালিকী তা সোজা নাকচ করে দিয়েছেন।

    উত্তরাঞ্চলে যখন কুর্দীরা আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, তখন পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তার অভাব উল্লেখ করে হাজার-হাজার সৈন্যের সমাবেশ ঘটিয়েছে প্রতিবেশী সৌদি আরব। এ-মর্মে সংবাদ প্রচার করেছে দুবাই ভিত্তিক কিন্তু সৌদি মালিকানাধীন সংবাদ-মাধ্যম আল আরাবিয়া, যা এখন পশ্চিমা গণমাধ্যমে পুনঃপ্রচারিত হচ্ছে।

    সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত প্রায় আড়াই হাজার ইরাকী সেনা তাদের কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরব নিজ নিরাপত্তার রক্ষার্থে সৈন্য মোতায়েন করেছে বলে দাবি করেছে আল আরাবিয়া। কর্মস্থল ছেড়ে আসা সৈন্যদের 'স্থান ত্যাগের কারণ' বর্ণনা করার ভিডিও ক্লিপও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

    কিন্তু ইরাকী কর্তৃপক্ষ এ-বক্তব্য খারিজ করে দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাদ মান বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে দাবি করেছেন, "সীমান্ত স্বাভাবিক রয়েছে।" উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সাথে ইরাকের প্রায় সাড়ে পাঁচশো মাইল দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন