• স্বীকারোক্তিঃ লিবিয়ায় সরকার উৎখাতে কাতার তার স্থল-সেনা ব্যবহার করেছে
    libya_qatar_admits_ground_troops.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৭ অক্টোবর ২০১১, বৃহস্পতিবারঃ  জাতিসঙ্ঘের রেজ্যুলুশন ১৯৭৩, যার আওতায় কয়েকটি আরব-দেশকে নিয়ে ন্যাটো লিবিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে, তা ভঙ্গ করার কথা স্বীকার করেছে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কাতার। গতকাল লিবিয়া যুদ্ধের অংশীদার দেশগুলোর অংশগ্রহণে ও কাতারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত 'গাদ্দাফি-পরবর্তী' লিবিয়া বিষয়ক এক কনফারেন্সে এ-কথা স্বীকার করা হয়। এর আগ পর্যন্ত কাতার লিবিয়া আক্রমণে কেবল যুদ্ধ-বিমান পাঠানোর কথা জানিয়ে আসছিলো।

    কাতারের সেনা-প্রধান মেজর জেনারেল হামাদ বিন আলি আল-আতিয়া লিবিয়ায় তাঁর স্থল-সেনাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, 'আমরা ছিলাম তাদের (বিদ্রোহীদের) সাথে-সাথে প্রতিটি অঞ্চলে শতো-শতো সংখ্যায়।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা বিদ্রোহীদের সাথে ন্যাটোর সংযোগ হিসেবে কাজ করেছি'। কাতার বিদ্রোহীদেরকে নিজ-দেশে নিয়ে গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণও দিয়েছে। বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক সংস্থা ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) প্রধান আব্দুল জলিল 'গাদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরিকল্পনা প্রনয়ণ ও সম্পাদনে সহায়তা' করার জন্য কাতারকে কৃতিত্ব দেন। জলিল ন্যাটোকে এ-মাসের শেষে নির্ধারিত অভিযান সমাপ্ত না করতে অনুরোধ করেন। তাঁর ইচ্ছা, ন্যাটো যেনো লিবিয়ায় অন্ততঃ এ-বছরের শেষ পর্যন্ত অবস্থান করে।

    উল্লিখিত রেজ্যুলুশনটি মূলতঃ লিবিয়ার আকাশে 'নো-ফ্লাই জৌন' আরোপ করার উদ্দেশ্যে তৈরী করা হয়েছিলো, যেখানে লিবিয়ার মাটিতে কোনো বিদেশী সৈন্য পাঠানো ব্যাপারে পরিষ্কার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। লিবিয়ার মাটিতে যে বিদেশী স্থল-সেনা গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তা নিয়ে গত অগাস্টে ইউকেবেঙ্গলি একটি রিপৌর্ট প্রকাশ করে, যদিও হানাদার দেশগুলোর পক্ষ থেকে এবারই প্রথম তা স্বীকার করা হলো।

    জাতিসঙ্ঘের পৃথক একটি রেজ্যুলুশন ১৯৭০, যার মাধ্যমে লিবিয়ার অস্ত্র সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিলো, কাতার তাও ভঙ্গ করে বিদ্রোহীদেরকে এ্যাসল্ট রাইফেল, মেশিনগান, রকেটচালিত গ্রেনেড, গ্রেনেইড লঞ্চার ও ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী-কামান-সহ ভারী অস্ত্র-সস্ত্র ইত্যাদি। ফ্রান্স, ব্রিটেইন, সৌদি আরব ও সুদানও ঐ রেজ্যুলুশন ভঙ্গ করে বিদ্রোদেরকে যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করেছে। কিন্তু জাতিসঙ্ঘ এখন পর্যন্ত এ-নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

    গাদ্দাফিকে হত্যা করার পরও লিবিয়ার যুদ্ধ শেষ হবার কোনো সম্ভবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। গোত্র-বিভক্ত লিবিয়ায় গাদ্দাফির প্রতি অনুগত গোত্রগুলো তাঁর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়ার শপথ নিয়ে শুরু করেছে গেরিলা যুদ্ধ। বিদ্রোহী-বাহিনীতেও অন্তর্দ্বন্দ্ব দিন-দিন বাড়ছেই। গাদ্দাফি-বিরোধী সশস্ত্র-যোদ্দারা ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে মোটামুটি ৩ ভাগে বিভক্ত হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেঃ বেনগাজি, মিসরাতা ও ত্রিপোলি, যার অধিকাংশ রয়েছে এনটিসির নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কেবল বেনগাজির যোদ্ধারা এনটিসির কর্তৃত্ব মেনে চলছে। ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আল-কায়েদার সাথে সংশ্লিষ্ট আব্দেল হাকিম বেলহাজের বাহিনী, যাঁরা এনটিসিকে বিশেষ গ্রাহ্য করছে না। মিসরাতার যোদ্ধারা অদূর ভবিষ্যতে বেনগাজি বা ত্রিপোলির বশ্যতা মেনে নেবে বলে মনে করার কোনো কারণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। মিসরাতা-যে এনটিসির অধীন নয়, তা প্রমাণ করতে তারা এনটিসির ইচ্ছা উপেক্ষা করে গাদ্দাফির মৃতদেহ মিসরাতায় নিয়ে যায় এবং পাঁচদিন পর্যন্ত তা প্রদর্শন করে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন