• হীথ্রোতে প্রতীক্ষা-কাল সীমা অতিক্রম করছেঃ সমাধানের জন্য ল্যাণ্ডিং ফী বৃদ্ধির সম্ভাবনা
    Heathrow-queues.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১ মে ২০১২, মঙ্গলবারঃ  হীথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইউকে বর্ডার ফৌর্সের পরীক্ষা সেরে ব্রিটেইনে প্রবেশ করতে গিয়ে সর্বোচ্চ যতোক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর কথা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার সীমা লঙ্ঘিত হচ্ছে, সরকারের ব্যয় সঙ্কোচন নীতির পরিণতিতে বোর্ডার ফৌর্সের কর্মী সংখ্যা হ্রাসের কারণে। এ-পরিস্থিতি মোকাবেলায় বোর্ডার ফৌর্সের কর্মী সংখ্যা উপযুক্ত পর্যায়ে আনার প্রয়োজনে অর্থায়নের জন্য হীথ্রোতে ল্যাণ্ডিং ফী বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

    আজ বিবিসি ফৌর-এর ‘টুড্যে’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাতকারে ইন্টারন্যাশনাল এ্যায়ারলাইন্স গ্রুপের চীফ এক্সিকিউটিভ উইলী ওয়ালশ্‌ বলেছেন, ব্রিটেইনে প্রবেশ করতে হীথ্রোতে আধঘন্টা সময়ের বেশি অপেক্ষা করতে হয় না বলে সরকার যে দাবি করে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, হীথ্রো ও অন্যান্য বিমানবন্দরে পাসপৌর্ট লাইনে অব্যাহত বিশৃঙ্খলার অর্থ হচ্ছে ব্যবসার জন্য ব্রিটেইন উন্মুক্ত নয়। ওয়ালশ্‌ বলেন, ‘আমরা আর্জেন্ট এ্যাকশন চাই।’

    সদ্য ফাঁস-হওয়া উপাত্ত থেকে জানা যায়, হীথ্রো বিমানবন্দরে প্রতীক্ষা-কালের যে সীমা নির্ধারিত আছে, গত ১লা থেকে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত এই ১৫ দিনের মধ্যে ১৩ দিন এই এই প্রতীক্ষা-কাল লঙ্ঘিত হয়েছে।

    উপাত্ত থেকে দেখা যায়, এই সীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের যাত্রীদের ২০ বার এবং অ-ইউরোপীয়দের ক্ষেত্রে ৮২ বার। অ-ইউরোপীয় দেশের যাত্রীদের যেখানে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করার কথা নয়, সেখানে তাঁদেরকে ৯১ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে জানা যায়।

    গতকাল পার্লামেন্টের জরুরী প্রশ্নোত্তর অধিবেশনে ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ড্যামিয়ান গ্রীন ফাঁস হওয়া উপাত্ত ভ্রান্ত বলে তা অস্বীকার করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, উল্লেখিত ১-১৫ এপ্রিল এই ১৫ দিনের মধ্যে ১১ দিন প্রতীক্ষা-সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে।

    হীথ্রোতে বিমান অবতরণ করলে যে ল্যাণ্ডিং ফী দিতে হয়, তা থেকে বছরে ১ বিলিয়ন পাউণ্ড আয় হয়, যা থেকে থেকেই নির্বাহিত হয় ‘বর্ডার কন্ট্রৌল’-সহ অন্যান্য খরচ। কিন্তু সরকারের ব্যয় সঙ্কোচন নীতির অধীনে বোর্ডার ফৌর্সের কর্মী সংখ্যা আগামী তিন বছরে ১৮% হ্রাস করার সিদ্ধান্তের ফলে বিমানবন্দরগুলোতে এই প্রতীক্ষা-কাল দীর্ঘতর হচ্ছে।

    সম্প্রতি, ম্যানচেস্টার থেকে জরুরী ভিত্তিতে বোর্ডার ফৌর্সের এক দল কর্মী বিমান উড়িয়ে আনা হয়েছিলো হীথ্রোর বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে।

    লণ্ডনে অলিম্পিক চলা-কালে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে যদিও সরকার বাড়তি কর্মীর সংস্থান করে রেখেছে, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বিমানবন্দরগুলোতে কর্মী সংখ্যা উপযুক্ত পর্যায়ে উন্নীত করা প্রয়োজন। আর, এ-প্রয়োজনের নিরিখে সরকার ‘ফ্লাফীং স্কোয়াড’ গঠনের কথা বিবেচনা করেছে। ফ্লায়ীং স্কোয়ডের সদস্যরা এক স্থানু হয়ে না থেকে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে ধাবিত হতে হবেন।

    বিমানবন্দরে বোর্ডার ফৌর্সের কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি করে যাত্রীদের প্রতীক্ষা-কাল হ্রাসের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা মেটাতে ল্যাণ্ডিং ফী বৃদ্ধিতে আপত্তি নেই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স গ্রুপের। এর নির্বাহী উইলী ওয়ালশ্‌ বিবিসি ফৌরকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, উপযুক্ত পরিষেবা নিশ্চিত করতে পারলে তাঁরা উচ্চতর ল্যাণ্ডিং ফী দিতে প্রস্তুত আছেন।

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা এমন এক সরকারকে অর্থ দিতে প্রস্তুত নই, যারা অর্থের অপচয় করে।’

    ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ড্যামিয়ান গ্রীন জানিয়েছেন, ল্যাণ্ডিং ফী বৃদ্ধি ও আনুষাঙ্গিক পরিষেবা বিষয়ে হীথ্রোর সত্ত্বাধিকারী ব্রিটিশ এ্যায়ার ওয়েইজ ও অন্যান্য এয়ারলাইন্সের সাথে আলোচনা চলছে। তবে তিনি বলেন, তিনি এখনও হৌম অফিসের কাছে কিছুই উপস্থাপন করেননি।

    গ্রীন জানান, ‘এর উপর আমার কোনো প্রেজেন্টেশন নেই। আমি বিস্তারিত জানি না।’ তিনি বলেন, ‘যদি কেউ কোনো প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসেন, আমরা তা দেখবো।’

    ইউকেবেঙ্গলির আশঙ্কা, হীথরো-সহ অন্যান্য বিমানবন্দরে ল্যাণ্ডিং ফী বৃদ্ধি পেলে বিমান-ভাড়াতে তা প্রতিফলিত হবে। এ-মুহূর্তে সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করে বলা সম্ভব না হলেও, উচ্চ সম্ভাবনার হার যোগ করে বলা যায়, ল্যাণ্ডিং ফী বৃদ্ধির কারণ দর্শিয়ে এ্যায়ারলাইন্সগুলো তাদের লণ্ডন-গামী বিমানের টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।  অর্থাৎ, শেষ পর্যন্ত হয়তো যাত্রী সাধারণকেই বহন করতে হবে বাড়তি মূল্য।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন