• ‘আরাফাতকে খুন করা হয়েছে’ অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিলো ফ্রান্সের আদালত
    Arafat.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৯ অগাস্ট ২০১২, বুধবারঃ  প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা সংগ্রামের শীর্ষতম নেতা প্রয়াত ইয়াসির আরফাত মরেননি, ২০০৪ সালে ফ্রান্সের হাসপাতালে ‘চিকিৎসা’-কালে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে তাঁর স্ত্রীর উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল পশ্চিম প্যারিসের একটি আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে আরাফাতের লাশ তুলে পরীক্ষা করার অনুমোদন দিয়েছে প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষ।

    প্যারিসের পশ্চিম শহরতলী নতেখের একটি আদালতে সুহা আরাফাত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করে তাঁর স্বামীর মৃত্যুকে ‘হত্যা’ দাবি করে তদন্তের আবেদন করলে, আদালত তা মঞ্জুর করে।

    সুহা আরাফাতের এ-আবেদনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবে কাজ করেছে তাঁর মৃত স্বামীর কাপড় ও টুথব্রাশের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত তেজষ্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি।

    অধিকৃত প্যালেস্টাইনের রামাল্লাহ্‌তে পিএলও’র সদর দপ্তরে আড়াই বছর-কাল ইসরায়েলী সেনা-পরিবেষ্টিত হয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর অসুস্থ আরাফাতকে আকাশ-পথে উদ্ধার করে ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। যেখানে তিনি প্রায় এক মাস মরে মৃত্যু-পতিত হন। কিন্তু সেখানকার ডাক্তারগণ আরাফাতের মৃত্যুর কোনো জ্ঞাত কারণ উল্লেখ করতে ব্যর্থ হন।

    পরবর্তীতে আরাফাতের রক্ত ও মুত্রের নমুনা পর্যন্ত ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলে জানতে পারলে, তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে সন্দেহের উদ্রেগে হয় সুহা আরাফাতের মনে। ধারণা করা হয়, বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে ইয়াসির আরাফতকে খুন করা হয়েছে।

    গত নয় মাস আগে আরবী সংবাদ সংস্থা আল-জাজিরা ইয়াসির আরাফাতের ব্যবহৃত টুথব্রাশ,  কাপড় ও বিখ্যাত সেই সাদা-কালো নকশার স্কার্ফ সংগ্রহ করে সুইৎজারল্যাণ্ডের লুসেইনে অবস্থিত ‘ইনস্টিটুট ডি রেডিওফিজিক’-এর বিজ্ঞানীদের কাছে পরীক্ষার জন্য পাঠায়।

    বিজ্ঞানীদের কৃত পরীক্ষায় দেখা যায় ইয়াসির আরাফাতের ব্যবহৃত সরঞ্জামে উচ্চ মাত্রার ‘পোলোনিয়াম-২১০’-এর উপস্থিতি। 'পোলোনিয়াম-২১০' হচ্ছে অত্যন্ত উচ্চ তেজষ্ক্রিয় পদার্থ যা সহজলভ্য নয়। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে লণ্ডনে রুশ গোয়েন্দা অ্যালেক্সান্দর লিতভিনেঙ্কোকেও ঐ একই তেজষ্ক্রিয় পদার্থ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়।

    ইউরোপ-১ রেডিওর সাথে এক সাক্ষাতকারে সুরা আরাফাতের আইনজীবী মাখ্‌ বুনা বলেন, ‘বিষক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মিঃ আরাফাতের মৃত্যু হয়েছে বলে সমূহ সম্ভবনা নির্দেশ করেছে সুইৎজারল্যাণ্ডে-করা পরীক্ষাগুলো।’ তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পকে প্রমাণ করতে হবে, এবং এই যদি হয় ঘটনা, তাহলে এটি নিশ্চয় হয়ে থাকবে একটি ‘পূর্ব-পরিকল্পিত খুন।’

    নতুন প্রাপ্ত তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে, আরাফাতের মৃত্যুর বিষয়টি আলোচনার জন্য তিউনিসিয়া আরব লীগের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আহবান করেছে। প্যালেস্টাইনী কর্তৃপক্ষও তদন্তের উদ্দেশ্যে রামাল্লাহর লাইম-স্টৌনের সমাধিতে শায়িত ইয়াসির আরাফাতের মরদেহ তোলার পরিকল্পনা করেছে।

    আল-জাজিরার তদন্তের তৎপর ব্যক্তি ক্লেইটন সুইশারের মতে, আরাফাতের মৃত্যুকে ঘিরে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘকাল ধরে। তিনি বলেন, ‘গত আট বছর যাবত ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর রহস্য রাজনীতিকে প্রায়শঃ প্রভাবিত করেছে। সত্যি বলতে, আমি আশ্চর্য্য হচ্ছি যে, রাজনীতিকে আদালতের বাইরে রাখা হয়েছে।’

    এদিকে ইসরায়লের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগাল পালমর বলেছে, ‘এর সাথে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ফরাসী পুলিসের কাছে সুহা আরাফাত যে অভিযোগ করেছেন, তাতে ইসরায়লের কিংবা সুনির্দিষ্ট কাউকে নির্দেশ করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘ফরাসী বিচার বিভাগ যদি তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা আশা করি এ-বিষয়েক কিছু আলোকপাত ঘটবে।’

    এ-কথা মাধ্যমে ইসরায়েল আরাফাতের মৃত্যু বা হত্যার পেছেন শুধু নিজের হাত থাকার কথা অস্বীকার করার পাশাপাশি প্যালেস্টাইনীদের মধ্যে আরাফাত-বিরোধীদের উপর অঙ্গুলি নির্দেশ করার ইঙ্গিত দিলেন কি-না এখনও স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন