• ‘প্রথম-আলো’র আজগুবি খবরঃ ‘বিলাসিতার অভিযোগে কারাগারে সিরিয়ার ফার্স্ট লেডি!’
    Prothom-Alo-on-Asma-Assad1.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৯ মার্চ ২০১২, সোমবারঃ  বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা সংবাদপত্র ‘দৈনিক প্রথম আলো’ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের স্ত্রী আসমা আল-আসাদ সম্পর্কে এক আজগুবি সংবাদ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, বিলাসিতার অভিযোগে নাকি তাঁকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, যা বাস্তবে সত্যতো নয়ই, এমনকি আসাদ-বিরোধী পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশিত হয়নি।

    গতকাল রোববার প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘বিলাসিতার অভিযোগে কারাগারে সিরিয়ার ফার্স্ট লেডি!’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়, ‘মাত্রাতিরিক্ত অর্থ খরচ করার অভিযোগে সিরিয়ার ফার্স্ট লেডি ও দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের স্ত্রী আসমা আল-আসাদকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

    প্রথম আলো জানায়, ‘ফার্স্ট লেডির বিলাসিতার জন্য এই অপব্যয়ের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাশার আল-আসাদ।’

    পত্রিকাটি দাবী করে যে, প্রেসিডেন্ট আসাদ ক্ষুব্ধ হবার কারণে তাঁর স্ত্রীকে কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং দেশের সিনিয়র আইনজীবী তা নিশ্চিত করেছেন। প্রথম আলো লিখেছে, ‘আর তাই ফার্স্ট লেডি আসমাকে দু বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী’

    ‘প্রথম আলো’ তার খবরের উৎস হিসেবে ভারতের পশ্চিম-বাংলা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ‘টাইমস অফ ইণ্ডিয়া’র নাম উল্লেখ করে।

    অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘টাইমস অফ ইণ্ডিয়া’ প্রশ্নবোধক চিহ্ন সহকারে ‘সিরিয়ার ফার্স্ট লেডি বিলাসী কেনাকাটার জন্য জেইলের সম্মুখিন হচ্ছেন?’ শিরোনামে একই দিনে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে ঠিকই, কিন্তু ইংরেজিতে লিখিত সে-সংবাদের কোথায় এ-কথা বলা হয়নি যে প্রেসিডেন্ট আসাদের স্ত্রী আসমাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    আজ লণ্ডন থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক পত্রিকা’র ‘মন্তব্য প্রতিবেদন’-এ লেখা হয়েছে, আসমা আল-আসাদ সম্পর্কে ‘প্রথম আলো’র এই সংবাদ মূলতঃ পত্রিকাটির ইংরেজি ভাষা বুঝতে না পারার ফল।

    ‘পত্রিকা’য় দাবী করা হয়, ‘প্রথম আলো’র ইংরেজি না বুঝে সংবাদ পরিবেশন করে বিভ্রাট তৈরী ঘটনা এটিই প্রথম নয়। তার আগেও ভারতেরই অন্য একটি ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’র সম্পাদকীয়’ উদ্বৃত করে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে একই ধরনের ভুল করেছিলো ‘প্রথম আলো’।

    গতকাল প্রকাশিত ‘টাইমস অফ ইণ্ডিয়া’র মূল সংবাদ ও ‘প্রথম আলো’র অনুবাদ-সংবাদ তুলনা করে ইউকেবেঙ্গলি নিশ্চিত করছে যে, ‘প্রথম আলো’র প্রকাশিত সংবাদের সাথে ‘টাইমস অফ ইণ্ডিয়া’য় প্রকাশিত সংবাদের সাথে কোনো মিল নেই।

    ‘প্রথম-আলো’র সংবাদ বিভ্রাটের কারণ তার ইংরেজি ভাষার অজ্ঞতা, নাকি সিরিয়ার প্রতি তার নেতিবাচক মনোভাব, নাকি দু’য়ের সংমিশ্রণ, তা অনুসন্ধানের দাবী রাখে।

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

প্রথম আলোর মত একটি পত্রিকা এরকম একটি নিউজ করলে আমরা আসলেই বিমর্ষ হয়ে পড়ি। কারন এই পত্রিকা অনেক নাম খ্যাতি যশ যুক্ত পত্রিকা। কিভাবে তারা এমন একটি খবর ছাপে? আশা করছি এরকম ভুল ধরা পড়বে সব সময় ইউকে বেংগুলীর মত পত্রিকায়।

পাবলিক ডরায় পুলিশরে আর পুলিশ ডরা্য় পুত্তম আলুরে!

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন