• সাঁড়াশি অভিযানে হেফাজতে ইসলামকে হটিয়েছে নিরাপত্তাকর্মীরাঃ ভেঙ্গে দিয়েছে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চও
    bd_hefazot_police_action_6may13_02.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৬ মে ২০১৩, সোমবারঃ  গতকাল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে অবস্থান নেয়া ইসলামবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদেরকে গভীর রাতে বলপ্রয়োগ করে সরিয়ে দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তারক্ষীরা। একই সময়ে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে শাহবাগে  স্থাপিত শহরের তরুণদের গণজাগরণ মঞ্চও ভেঙ্গে দিয়েছে পুলিস।

    রাত আড়াইটার দিকে নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযান শুরু হয়, যাতে পুলিস, র‍্যাব ও আধা-সামরিক বাহিনী বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)'র প্রায় ১০ হাজার সদস্য অংশ নেয়। এ-সময় মতিঝিলের সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, এমনকি সড়ক-পার্শ্বের স্ট্রীট লাইটও বন্ধ থাকে। ঢাকা থেকে প্রাপ্ত একাধিক সংবাদে বলা হয়েছে মতিঝিলে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে হেফাজতে ইসলামের বহু কর্মী হতাহত হয়েছেন। একই সময়ে, হেফাজতে ইসলামের প্রতি 'সহানুভূতিশীল' বলে কথিত দিগন্ত
    টিভি নামের একটি স্থানীয় বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

    'নাস্তিক' ব্লগারদের শাস্তি, ঘরের বাইরে নারী-পুরুষের মেলামেশার নিষিদ্ধি ইত্যাদি ১৩টি দাবি নিয়ে কওমী মাদ্রাসা-ভিত্তিক চট্টগ্রামের ইসলামবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম গতকাল ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি পালন করে। এ-উপলক্ষ্যে সংগঠনটির লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থক ঢাকার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে জড়ো হয়। দিনব্যাপী পুলিসের সাথে তাদের সংঘর্ষ চলে; মতিঝিল ও সন্নিহিত এলাকায় স্থানে-স্থানে অগ্নিসংযোগ করে তারা। নিকটবর্তী কমিউনিস্ট পার্টির অফিসেও তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিস টীয়ার গ্যাস, সাউণ্ড গ্রেনেইড, জলকামান, রবার বুলেট ও লাঠি ব্যবহার করে। দিনভর সহিংসতায় অন্ততঃ ৫জনের প্রাণহানী ও শতাধিক ব্যক্তির আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

    এদিকে রাতে মতিঝিলে হেফাজত-উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন একই সময়ে ঢাকার অন্যত্র, শাহবাগে, ফেব্রুয়ারী মাসের ৫ তারিখে স্থাপিত গণজাগরণ মঞ্চটিও ভেঙ্গে দিয়েছে পুলিস। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে এ-খবর নিশ্চিত করেছেন। ঐ থানার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ-সংস্থাটি জানায় যে, উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শাহবাগের অস্থায়ী মঞ্চ ও সংলগ্ন ছোট-ছোট বুথগুলো সরিয়ে ফেলেছে পুলিস।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সঙ্ঘটনের দায়ে অভিযুক্ত সকলের ফাঁসির রায় চেয়ে এ-মঞ্চের কর্মীরা লাগাতার অবস্থান-কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এর সাথে সংহতি জানিয়েছিলো দেশটির সরকার ও পার্লামেণ্ট - যার ফলশ্রুতিতে দ্রুততার সাথে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনটি সংশোধিত হয়।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন