• গুজরাতে 'মুসলিম গণহত্যা' মামলার রায়ঃ বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী-সহ ৩২ জন দোষী সাব্যস্ত
    india_gujrat_riots_2002.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৯ অগাস্ট ২০১২, বুধবারঃ ২০০২ সালে ভারতের গুজরাতে সঙ্ঘটিত মুসলিম গণহত্যা মামলার রায় প্রকাশ হয়েছে আজ। সহায়-হীন নারী ও শিশু-সহ  অন্ততঃ ৯৭ জন ব্যাক্তিকে হত্যা দায়ে প্রাক্তন নারী ও শিশু উন্নয়ণ মন্ত্রী মায়া কোড়নানি-সহ আরো ৩১ জন ব্যাক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। আগামী শুক্রবার দোষীদের কার কী শাস্তি হবে সে-ঘোষণা দেয়া হবে।

    দোষী নিশ্চিত হওয়াদের মধ্যে মৌলবাদী দল হিন্দু পরিষদের যুব-সংগঠন 'বজরঙ্গী দল'-এর গুজরাত শাখার নেতা কুখ্যাত বাবু বজরঙ্গীও রয়েছেন। তিনি এ-গণহত্যা সংগঠিত করতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন এবং এর জন্য গর্বিত বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, 'একটি মুসলমান দোকান বা ঘরও বাদ রাখিনি, সব পুড়িয়ে দিয়েছি। পুড়িয়েছি কারণ (মুসলমান) হারামজাদারা (মরার পর) পুড়তে চায় না, ভয় পায়'। এ-মামলায় তাঁর ফাঁসি হলেও তিনি আনন্দিতই হবেন বলে অরুন্ধতী রায়ের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর ইচ্ছা সে-ক্ষেত্রে শেষবারের মতো তাঁকে যেন দু'টো দিন সময় দেয়া হয় - তিনি আরও ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ মুসলমান হত্যা করতে চান।

    ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী একটি রেইল-গাড়ীতে আগুন লেগে ৫৮ জন হিন্দু নাগরিক প্রাণ হারান। ঘটনার সঙ্গে-সঙ্গে গুজরাতে ক্ষমতাসীন ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল বিজেপি ও অন্যান্য হিন্দু মৌলবাদী সংগঠনগুলো একে 'মুসলমান গুণ্ডাদের কাজ' বলে অভিহিত করে। পরবর্তীতে উমেশ চন্দ্র ব্যানার্জী কমিটীর অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে যে, এটি ছিল নিছক একটি দুর্ঘটনা। বাবু বজরঙ্গী দ্রুত গুজরাতে হিন্দু মৌলবাদীদেরকে সংগঠিত করে নারোড়া পাতিয়া এলাকায় পরিকল্পিতভাবে মুসলমান বসত-বাড়ি ও ব্যবসা-কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়ে বহু মানুষ হত্যা করেন। ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সহ একাধিক সংগঠনের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি'র রাজ্য-সরকারের বিরুদ্ধে জান-মাল-মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হওয়া এবং কোন-কোন ক্ষেত্রে সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগ এনেছে।

    দোষী কোড়নানি ২০০৭ সালে রাজ্য সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী হন। কিন্তু ২০০৯ সালে গুজরাত দাঙ্গার মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হলে তিনি পদত্যাগ করেন - সে-বছরই তিনি জামিনে মুক্ত হন। পুলিস, চিকিৎসক, প্রত্যক্ষ্যদর্শী, সরকারী কর্মী ইত্যাকার ৩২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য যাচাই শেষে আদালত ভারতীয় পেনাল কৌডের ৩০২ ও ১২০ (বি) ধারায় অভিযুক্তদেরকে দোষ নিশ্চিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে বজরঙ্গীকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যান্যদের বেশিরভাগকেই যাবৎজীবন কারাদণ্ড প্রদান হবে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন