সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- সামনের বিশ্বকাপ জয় করাটাই আমাদের এখনকার পরিকল্পনাসাক্ষাতকার দিয়েছেন:মিনহাজুল আবেদিন নান্নু

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এখন সু-সময়। টেস্ট-এর পরে ওয়ান-ডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওয়াইট ওয়াশ করার আনন্দে ভাসছেন ক্রিকেটামোদীরা। জাতীয় দলের এই বিজয় গাঁথার ফাঁকে বলতে গেলে অনেকটাই অনালোচিত থেকে যাচ্ছে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের সাফল্যের কাহিনী।
বাংলাদেশের অনুর্ধ্ব ১৯- ক্রিকেট দল দারুন নৈপুন্যের মাধ্যমে শেষ করল দীর্ঘ এক মাসের ইংল্যান্ড সফর। এই সফরে দুইটি চার দিনের টেস্টের প্রথমটি হারলেও দ্বিতীয়টি ভালোভাবে লড়াই করে ড্র করতে সক্ষম হয় লম্বা-ভার্সানের ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা না থাকা এই দলটি। তবে তিনটি ওয়ানডে-এর মধ্যে প্রথমটিতে হারলেও শেষের দুইটিতে শক্তিমান ইংল্যান্ড দলকে হারিয়ে দেয়ার চমক দেখাতে পেরেছে। উল্লেখ্য, এর আগে কখনও বাংলাদেশের কোন ক্রিকেট দল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোন সিরিজ জিততে পারেনি।
অনুর্ধ্ব ১৯- ক্রিকেট দল এই সাফল্যের অন্যতম রুপকার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। এক-সময়ের মাঠ-মাতানো এই ক্রিকেটার বর্তমানে অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের কোচ। গত ৩০শে জুলাই বৃহস্পতিবার লন্ডনে বাংলাদেশ হাই-কমিশনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানকালে ইউকেবেঙ্গলির সাথে কথা বলেছেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন আশফাক চৌধুরী।
এবারের ইংল্যন্ড সফরকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
প্রাপ্তির হিসাবে অনেক কিছুই। কিন্তু এত অল্পতে তৃপ্ত হতে চাইনা। তবে এবারের সফর আমাদের ক্রিকেটারদের বিভিন্নভাবে সাহয্য করবে। বিশেষ করে ইংলিশ কন্ডিশন ও বাউন্সি উইকেটে খেলার স্কিল এবারের সফরের মধ্য দিয়ে অনেকটাই বাড়বে বলে আমি মনে করি। অপরিচিত পরিবেশে ছেলেরা যে সফলতা দেখিয়েছে তা অবশ্যই পজেটিভ।
আমাদের এই দলটি সম্পর্কে কিছু বলুন?
আমাদের দেশে প্রতিভাবান ক্রিকেটারের অভাব নেই। তার মধ্য থেকে আমাদের এই দলটি নির্বাচন করা হয়েছে। আমরা খুবই ভাল দল পেয়েছি।একটি ব্যালেন্স টিমের সব কিছুই আমাদের আছে। অল্প বয়সেই আমাদের ছেলেরা অনেক পরিপক্ক ক্রিকেটার।
একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের সাফল্যের মূল কারনগুলো বলবেন দয়া করে?
আমাদের টিম স্প্রিরিট, কঠিন পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা। দলের মধ্যে ভাল বুঝাপড়া আছে। ছেলেরা তাদের দায়িত্ব বুঝার চেষ্টা করে। আমরা সবাই টিম নিয়ে অনেক কাজ করছি।
চারদিনের ম্যাচে আমাদের ক্রিকেটাররা এখনো ভাল খেলতে পারছেনা। লম্বা-ভার্সন ক্রিকেটে আমাদের দুর্বলতা কোথায়?
এ-বক্তব্যের ব্যাপারে আমি একমত পোষণ করিনা। আমাদের এই দলে এবারের আগে চারদিনের টেষ্ট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা কারু ছিলোনা। তবু ছেলেরা ভাল করেছে। প্রথম টেষ্টে উভয় ইনিংসে ২৭০ এর উপরে রান এসেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা ভাল ব্যাটিং করে ড্র করেছি। সে হিসেবে লংগারন-ভার্সনে আমরা খুব একটা দুর্বল তা বলা যাবেনা। তবে এটা ঠিক যে আমাদের লংগার-ভার্সন ক্রিকেট নিয়ে আরো মনযোগী হতে হবে।
২০১০ এর যুব বিশ্বকাপ সামনে রেখে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে?বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটার কেমন করবে বলে মনে করেন?
২০১০ এর ফেব্রুয়ারীর বিশ্বকাপে আমাদের ভাল করার সুযোগ অনেক বেশি। আমি আগেও বলেছি ছেলেরা এই বয়সে অনেক প্রফেশনাল। তারা তাদের দায়িত্ব বুঝে। আমাদের প্রস্তুতি খুবই ভাল। আমরা প্রতিটি ম্যাচ পর্যালোচনা করছি। দেশে ফিরে এই সফর নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করব। আমাদের প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা মাফিক হচ্ছে।

ভবিষ্যত বাংলাদেশ জাতীয় দল গঠনে আপনার এই দল ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন?
অতীতে অনুর্ধ্ব-১৯ থেকে জাতীয় দল অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার পেয়েছে। এক্ষেত্রে এবার ব্যাতিক্রম হবেনা। আমাদের এই দলে বেশ কিছু সম্ভবনাময় ক্রিকেটার আছে। মমিনুল হক, এনামুল হক ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলে যাচ্ছে। অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান ও বেশ ভাল করছে। আসলে এই দলে প্রতিটা ছেলেই প্রতিভাবান, সবারই সম্ভাবনা ভাল বলে মনে হচ্ছে।
এই দল নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
সামনের বিশ্বকাপ জয় করাটাই আমাদের এখনকার পরিকল্পনা। বিশ্বকাপ জয়টাকে আমি প্রাধান্য দেব। আমাদের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের নিয়ে বিশ্বকাপ জয় সম্ভব।
কোচ হিসেবে এই সফরের প্রাপ্তিতে আপনি কি সন্তুষ্ট হতে পেরেছেন?
আমি অল্পতে সন্তুষ্ট হতে চাইনা। আমাদের টপ-অর্ডার আশানুরুপ রান পাচ্ছে না। আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
আমাদের তৃনমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা ক্রিকেটারের সংখ্যা কেমন?
তৃনমূল থেকে আমরা প্রচুর ক্রিকেটার পাচ্ছি। আমাদের অনুর্ধ্ব-১৩, অনুর্ধ্ব-১৭ দল থেকে অনেক পরিপক্ক ক্রিকেটার উঠে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দল নির্বাচনের জন্য আমাদের শুধু বিকেএসপি-এর উপর নির্ভর করতে হচ্ছেনা। আমাদের এই স্কোয়াডে মাত্র তিন-চার জন ক্রিকেটার বিকেএসপি থেকে এসেছে। আমাদের তৃনমুল পর্যায় থেকে ভাল সাপোর্ট পাচ্ছি।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কিছু বলুন?
বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচিত দল। প্রতিনিয়ত আমরা ভাল করছি। সার্বিক দিক দিয়ে আমাদের অবস্থান অনেক ভাল। ক্রিকেট নিয়ে আমাদের দেশবাসীর অনেক আগ্রহ। ক্রিকেট নিয়ে অনেক কাজও হচ্ছে। আমি বলব আমাদের ক্রিকেটের অবস্থা বেশ ভাল।
এক-সময়ের জনপ্রিয় ক্রিকেটার নান্নু আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত নির্মানে নিমগ্ন নান্নু। ভিন্ন দুই ভূমিকায় আপনার অনুভুতি সম্পর্কে কিছু বলুন?
দুই ভূমিকাতে অনেক দায়িত্ব থাকে। কোচিংয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্ব একটু বেশি, দলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা থেকে আরম্ভ করে ক্রিয়েটিভ অনেক কিছুর দিকে নজর দিতে হচ্ছে। তবে আমি ক্রিকেট উপভোগ করি। অনুভূতি ভিন্ন হলেও দুই ভূমিকাতেই সম্পর্ক খুঁজে পাই।
সময় দেয়ার জন্য ইউকবেঙ্গলির পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ।
আপনাদেরকেও ধন্যবাদ
blistering performar in dometic cricket.