• আর্কটিকস পাহারায় ডেনমার্কের কমান্ডৌ বাহিনী প্রস্তুত
    চিত্রা পাল

    উত্তর মেরুর বরফ-স্থল 'আর্কটিকস' সুরক্ষার লক্ষ্যে সামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত ডেনমার্কের কমান্ডৌ  বাহিনী। সম্প্রতি ডেনমার্কের এক দৈনিক পত্রিকার সূত্রে জানা যাচ্ছে এ-তথ্য।  ডেনমার্কের অধীনস্থ 'আর্কটিকস' এলাকার সঠিক সীমা রেখা নির্ধারনের লক্ষ্যেএই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, কানাডা এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে একই ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।  স্মরণ করা যেতে পারে  আর্কটিক বরফ-স্থল নিয়ে বহুদিন থেকে বিভিন্ন দেশের সাথে মধ্য স্নায়ুর লড়াই চলছে দীর্ঘ-দিন থেকে।

    পৃথিবীর উত্তর মহাদেশের  সকল মহাসাগরের মিলন কেন্দ্র "আনটানরিক্স"মহাসাগর এবং সেটা আনটানরিক্স বরফ সাগরের মহামিলনের অবস্থান থেকেই আর্কটিকস সমস্যা সমাধান সম্ভব। জানা গেছে, যাবতীয় সকল তথ্য-উপাত্ত জরিপ  ও নানান দেশের দিক থেকে আসা প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখে  সামরিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে  ডেনমার্ক। দেশটির আর্কিটিকস বিষয়ক প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে কাজ করবে সংশ্লিষ্ট  বিষয়ে  অভিজ্ঞতা সম্পন্ন উচ্চ-পর্যায়ের বিজ্ঞ-ব্যক্তিবর্গ। তবে গ্রীনল্যান্ড মনে করেছে  ডেনমার্ক অপ্রয়োজনীয়ভাবে এই সামরিকীকরণ ঘটাতে যাচ্ছে। গ্রীনল্যান্ডের সাবেক কোমান্ডো প্রধান আকসেল ফাইডলার মনে করেন ডেনমার্কের উদ্যোগের ফলে  কানাডা  নুতন করে  এ-ধরনের তৎপরতাতে উৎসাহী হয়ে উঠবে।  ডেনমার্কের উদ্যোগটিকে রাশিয়ার দিক থেকেও কড়া-ভাবে দেখা হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা;  দেশটি আর্কটিকে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    রাশিয়ার দিক থেকে  অবশ্য অনেক দিন থেকেই আর্কটিকসের উপরে নিজের দাবী জানিয়ে রাখা হচ্ছে। কয়েক-দিন আগে দেশটির একজন মন্ত্রী জানিয়েছেন  দাবীর সপক্ষে তারা যথেষ্ঠ তথ্য-প্রমান দেখাতে পারবেন।  এ-বক্তব্যের মধ্য দিয়ে  উত্তর মেরুর প্রাকৃতিক সম্পদের উপরে রাশিয়ার দাবী প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   উল্লেখ্য,  রাশিয়া  অতি-সম্প্রতি সমুদ্রের তলদেশে একটি মৃত্তিকা গবেষণা পরিচালনা করেছে।

    এখানে উল্লেখ্য করার মত বিষয় হলো প্রচলিত আন্তর্জাতিক সমূদ্র আইন অনুযায়ী পাঁচটি দেশ   আর্কটিকসের দাবীদার।  এ-দেশগুলো হচ্ছে  কানাডা, রাশিয়া,আমেরিকা,নরওয়ে ও ডেনমার্ক।  এর মধ্যে বরফের নীচে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের  সম্ভাবনায় জোরদার অভিযান চালাচ্ছে আমেরিকা, কানাডা, ও রাশিয়া। এ-দেশগুলো আর্কটিকস প্রকল্পে কোটি- কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে। সম্প্রতি ডেনমার্কের দিক থেকেও একই ধরনের তৎপরতা শুরু  হচ্ছে।

    বরফ ঢাকা সমূদ্রের তলদেশের ভৌগলিক মেরু-পৃষ্ঠ লোমোনোসোভের অবস্থান নিয়েই চলছে ডেনমার্ক ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব।  চলতি সপ্তাহে ডেনমার্কের বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী হেলগে সান্দ্রেসউত্তর মেরুকে ডেনমার্কেরই একটি অংশ হিসাবে দাবী  করেন;  বিপরীত মুখী তথ্য-প্রমান অনুসারে অন্য-দেশেরও অংশীদারীত্ব আছে বলে তিনি মেনে  নেন।

    ষ্টকহম ইউনিভারসিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ের   প্রফেসর সাঈদ মাহমুদ এ-প্রসঙ্গেবলেন যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উত্তর মেরুর   চতুর্দিক  বিভিন্ন অংশে ভাগ হয়ে যাবে।  জাতিসংঘের বিশেষ একটি কমিশন এই বিষয় নিয়ে  অবশ্য ইতিমধ্যে এ-ব্যাপারে কাজ শুরু  করছে। রাশিয়াকে  চলতি বছরের মধ্যেই  তার দাবীর স্ব-পক্ষে যাবতীয় তথ্য-প্রমান এই কমিশনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। মাহমুদ  জানান তবে ডেনমার্ককে তথ্য-প্রমান  দিতে হবে ২০১৪ সালের মধ্যে।  অধ্যাপক মাহমুদের ধারনা

    অকল্পনীয় পরিমান তেল ও গ্যাস উত্তোলনের সীমাহীন সম্ভাবনার কারনেই  আর্কটিক নিয়ে  দেশগুলোর মধ্যে  দ্বন্দ্ব চলছে।

    ০২ অগাস্ট ২০০৯

    Pictures

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

মেরুযুদ্ধ!
 
মরু এবং মেরু, লোভী শয়তানের থাবা থেকে পৃথিবীর কোনো কোণের রেহাই নেই! তেল আছে তো তারা হাজির...
মেরুর বরফ গলিয়ে দুনিয়াতে নূহের প্লাবন আবার না বইয়ে ওরা ছাড়বে না দেখছি...

Darun khobor to? khomota ta tahole firbe onno dike.

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন