• একমাত্র আমেরিকাই পারে পৃথিবীতে চিরশান্তি আনতে!
    জগাই লাল সরকার

    বড়সড় একটি বোমা;
    চার টন ওজন নিয়ে
    হেলেদুলে নেমে এল শহরের বুকে!
    টুপ করে পড়ল।
    চুপ করে বিশ্রাম নিল মিনিটখানেক।
    তারপর
    ফেটে পড়ল তীব্র আক্রোশে
    কিংবা উল্লাসে।
    সূর্যের সাথে তার আজ বাজী -
    কে বেশি উত্তাপ ছড়াতে পারে এই শীতল ধরণীর বুকে!
    হুংকার করে নাচতে থাকে বোমার আগুন
    পুড়তে থাকে যত পাপী আছে এই শহরে।

    গতরাতে জন্মালো যে শিশুটি
    সে-ও জেনে গেল,
    পৃথিবীর মানুষ এখনও সভ্য হয়ে ওঠেনি ততোটা!
    বিদায় নিল ৯০ বছর ধরে সভ্যতার গর্বে
    গর্বিত বৃদ্ধটিও; বুড়ো বিশ্বাস করত যুদ্ধে তারাই জিতবে শেষ-তক।

    বোমাটিও জানত তার ক্ষমতাই বেশি, সূর্যের চেয়েও,
    সাড়ে পাঁচ হাজার ফারেনহাইটের গর্বে বাঁকা হাসি ছুঁড়ে দিল সূ্র্যের পানে।
    সেই আদিকাল থেকেই সূর্য ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে, পারেনি -
    বোমাটি পারল!
    এক কিলোমিটারের মাঝে যত প্রাণী ছিল জ্বলে গেল এক পলকে!
    চামড়া-মাংস-হাড় পুড়ে ছাই।
    এক লাখ লাশের ছাই দিয়ে লিখা হল নতুন ইতিহাস
    মানুষের চেয়ে বেশি মানুষ ঈশ্বরও হত্যা করেনি।

    পুনশ্চ: দু'টো দিন পর আরেকটি বোমা ঝাঁপিয়ে পড়ে জাপানের আরেক শহর নাগাসাকিতে।
    ইতিহাসের একই অধ্যায়ে যোগ হয় আরেকটি নতুন পাতা। মাত্র দু'টো বোমায় লাখ দুয়েক
    মানুষ হত্যা করে পৃথিবীর সকল মানুষের নিরাপত্তা দেবার অধিকার দখল করে নিল যুক্তরাষ্ট্র।

    [হিরোশিমা ও  নাগাসাকিতে ১৯৪৫ সালে ০৬ অগাস্ট ও ০৯ অগাস্টের মার্কিন আনবিক বোমা হামলার স্মরণে]

    আপলৌড ০৯ অগাস্ট ২০০৯

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন