• আনু মুহম্মদের উপরে রাষ্ট্রীয় হামলা এবং একটি সঙ্কেত-বার্তা
    বাঁধন অধিকারী

    পাঠকের কলম

    সততা-নিষ্ঠা-প্রেম-প্রতিরোধের মাঝ দিয়ে প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করতে থাকা নিবেদিত-প্রাণ এক অর্থনীতিবিদ, এক মানব-প্রেমিককে রাস্তায় শুইয়ে পিটিয়ে জখম করলো বাংলাদেশ রাষ্ট্র। রাষ্ট্রযন্ত্র বুঝিয়ে দিলো, আমরা আনু মুহাম্মদকেও মারতে পারি, সুতরাং গোটা দেশের প্রতিবাদী মানুষ সাবধান। বুঝিয়ে দিলো আমরা নির্বিচারে মানুষ মারলে, আমরা দেশের তেল-গ্যাস বিকিয়ে দিলে, আমরা নিও লিবারাল ছাঁচে ভরিয়ে গোটা দেশটাকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ক্রয়-বিক্রয় যোগ্য পণ্যে পরিণত করলে তোমরা কেউ কিন্তু কোনো কথা বলো না। আমরা আনু মুহাম্মদকেও ছাড়ি না!

    তাই আনু মুহাম্মদ আহত হবার পরেও যারা চুপ করে থেকে পার পাবার চেষ্টা করবে, তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন নাও হতে পারে! আনু মুহাম্মদ দাঁড়িয়ে গিয়ে মার খেয়েছেন। যারা দাঁড়াবে না, তারা মার না খেয়েই নিঃশেষ হয়ে যাবে। অন্য যারা মার খেয়েছে তারা এই সত্যটা বুঝেই মার খেয়েছে। তারা প্রত্যেকেই এক একজন আনু মুহাম্মদ। সব মার খাওয়া মানুষেরা আজ তাই আমাদের প্রেরণা হোক।

    মনে পড়ছে ছাত্র-বিক্ষোভের কথা! সেনা কর্পোরেট কর্তৃত্বের গাড়ীতে চড়ে বাংলাদেশের নিও লিবারাল ভ্রমণ-পর্বের সেই 'গর্বিত' সূচনার কালে গার্মেন্টস এর শ্রমিক, সারের দাবির কৃষকের যখন দিশেহারা অবস্থা তখনও আমাদের অনেক বুদ্ধিজীবীরা আইনের শাসন, দূর্নীতি বিরোধীতা আর বাজার-গণতন্ত্রের পক্ষে ছাফাই গেয়ে যাচ্ছেন। তারপর ঐ কর্তৃত্বের গাড়ী যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ে শিকক্ষ-শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হলো তখন কেবল কিছু-কিছু মধ্যবিত্তের জ্ঞান হলো। বোঝা গেলো এ-জিনিস কঠিন এক জিনিস। ওটা আমাদেরও ছাড়ে না। তারপর ছাত্র বিক্ষোভের প্রেরণাতেই আর তারই পাটাতনে দাঁড়িয়ে দিন বদলের সনদ নিয়ে এই সরকার মহাজোট ক্ষমতায় এসেছে বিপুল পরিমাণ আসন নিয়ে। স্পষ্ট মনে আছে সেই মহা-জরুরি সরকারের কালেও আনু মুহাম্মদ সোচ্চার থেকেছেন; আইএমএফকে রুখে দিয়েছেন লেখায়-প্রতিবাদে, কিংবা ছাত্র বিক্ষোভের কালে। সেই অনির্বাচিত সরকার তেল-গ্যাস কমিটির কারণেই গ্যাস বিকিয়ে দিতে পারে নি। কাজটা এগিয়ে রেখেছিলো। এই নির্বাচিত সরকার সেই গ্যাস বিকিয়ে দিচ্ছে আর আনু মুহাম্মদরা যখন কথা বলতে চাইছেন তখন তাদের পেটাচ্ছেন। পা ভেঙে দিতে চাইছেন। এই সরকার তাহলে কি মহামহামহা জরুরি ক্ষমতা নিয়ে এসেছে? জরুরি ক্ষমতার সাথে তাহলে কি যোগ হয়েছে নির্বাচিত কোনো ক্ষমতা? দুইয়ে মিলে রাস্তায় ধরে পেটাতে পারছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবেদিতপ্রাণ একজন শিক্ষককে? মানব-প্রেমিক একজন সোচ্চার নাগরিককে? সেনা-নিয়ন্ত্রিত সরকারও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পিটিয়েছে; ইলেকট্রিক শক দিয়েছে, তবে প্রকাশ্য দিবালোকে নয়; রিম্যান্ডে নিয়ে - অপ্রকাশ্যে। এই সরকার প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করলো। হায়রে জাতিরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব! হায়রে নাগরিকের প্রতিবাদের ন্যায্য অধিকার! হায়রে রাষ্ট্র, হায়রে দিন-বদল!

     

     

    আপলৌডঃ ০৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯

     

     

     

    Pictures

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন