London Sunday 1 August 2010

অধরা

আহমদ রাজু

আয়েজ উদ্দির সাথে অধরার মন দেওয়া নেওয়ার কথা এপাড়া-পাড়ার কারো জানতে বাকি নেই। আর জানবে নাই বা কেন? তারাতো আর লুকিয়ে-চুকিয়ে কিছু করছে না। দিব্যি সামনা-সামনি। দেখা, চোখে-চোখ রাখা, মনে-মনে কথা বলা ইত্যাদি। একদিনতো মানু গাজী এই বেলেল্লাপনার জন্যে কিছু বলবার আগেই অধরা আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয়, আয়েজ উদ্দির সাথে কি করি আর না করি সেই খোঁজ কি তুমি সারাক্ষণ রাখো? তুমার কী খায়ে-দায়ে কোন কাজ নেই?

-তুইতো আমাগের গাঁয়ের ভাগনি; তোর খোঁজ আমরা না রাখলি রাখপে কিডা?

-না বাপু, আমার খোঁজ তুমার নিতি হবে না। আয়েজ উদ্দি যত্তদিন আছে, আমার খোঁজ সেই নেবেনে।

অধরার মুখের ভাব ভঙ্গি দেখে মানু গাজীর বুঝতে মোটেও বাকী থাকে না সে কী বলতে চায়। আর কথা বাড়ায় না। চুপচাপ চলে যায় চোখের আড়ালে।

সারাদিন এপাড়া-ওপাড়া ঘুরে বেড়ায় অধরা। লম্বাটে মুখের গড়ন। গায়ের রং কাঁচা হলুদের মতো। চোখের পাঁপড়ি দেখে মনে হয় কোন দক্ষ শিল্পী যেন কিছুক্ষণ আগেই এঁকেছে তার ক্যানভাসে। কাম-কাজ বলতে তেমন কিছু নেই। মামার সংসারে মানুষ। অধরা যখন মায়ের পেটে তখন তার বাবা নিরুদ্দেশ হয়। জন্মের কিছুদিন পরে মাও পরপারে পাড়ি জমায়। অধরার দায়িত্ব এসে পড়ে মামার ঘাড়ে। সংসারের বাড়তি বোঝা হলেও দিনে-দিনে সে এই সংসারের একজন হয়ে ওঠে। অধরা একটু চঞ্চল স্বভাবের মেয়ে। সারাদিন এপাড়া-ওপাড়া ঘুরে বেড়ায়। মা মরা মেয়ে, তার ওপর কথা বলতে পারে না। সেজন্যে অধরা কষ্ট পায় এমন কথা মামা-মামী পারতপক্ষে বলে না। মাঝে-মাঝে দু'এক কথা বেশি বললেও তারা অধরাকে কম ভালবাসে না। মামী তাকে অনেক বুঝায়, তুই এখন বড় হচ্ছিস। এভাবে বাড়ি-বাড়ি ঘুরে বেড়ালি লোকে মন্দ কবে। এমনিতো কথা কতি পারিস না, তার ওপর.......।

অধরা আকার-ইঙ্গিতে প্রশ্ন করে, ক্যান; সমস্যা হবে ক্যান? আয়েজ উদ্দিতো আমারে কথা দিছে, সে আমারে বিয়ে করবে।

-চুপ কর। ওনাম মুখে আনবি নে। গাছে কাঁঠাল গোঁপে তেল। কবে কী হবে না হবে এখন তার ভাবনা দরকার কী?

মামীর কথাকে উপেক্ষা করে অধরা যেনো জানতে চায়, আচ্ছা মামী, তুমি এট্টা সত্যি কথা কও দেহি, আয়েজ উদ্দির কথা শুনলি তুমি রাগে যাও ক্যান?

-রাগবো ক্যান? এরাম ঘুরে বেড়ালি লোকে মন্দ কয়। বিয়ের সুমায় যহনে হয় তহন দেহা যাবেনে। আপাতত তার সাথে দেহা করা, কথা কওয়ার দরকার নেই। পাড়ায়-পাড়ায় ঘুরাও বাদ দে।

চোখ ছলছল করে ওঠে অধরার। মামী মাথায় হাত বোলায়। পাগলামী করিসনে মা। তোর মামার সম্মানের কথা চিন্তা করে বাউন্ডুলেপনা বাদ দে।

মাথা থেকে মামীর হাত সরিয়ে দেয় অধরা। আর জ্ঞান দিতি হবে না। ক্ষিদে লাগিচে, খাতি দেও।

-তোর যখন সন্তান হবে তখন বুঝবি।

-আমার ওসব বুঝে কাজ নেই। তুমারে কলাম ক্ষিদে লাগিছে; খাতি দেও।

- যা হাত মুখ ধুয়ে আয়।

খাওয়া শেষে অধরা আবারও ছুটে যেতে মন চায়। এখন এবাড়ি তো একটু পরে ওবাড়ি। কারো শাক বেছে দেওয়া, কারো মাথার উঁকুন খুটে দেওয়া, কারোর রান্না ঘরে পানি তুলে দেওয়া কারোবা আবার কাপড় কেঁচে দেওয়া। জীবনে কারো ক্ষতি করেছে এমন অভিযোগ কানে আসেনি কখনও। সবাই অধরাকে কম-বেশি ভালবাসে। তবুও একটা উঠতি বয়সি মেয়ের এভাবে ঘুরে বেড়ানো মুরব্বীদের চোখে ভালো দেখায় না। অধরার সাথে এ-বিষয়ে কেউ তেমন কিছু বলে না। যে কথা-ই বলতে পারে না তার সাথে কথা বলা আর না বলা সমান বলে মনে করে সবাই, শুধু আয়েজ উদ্দি ছাড়া।

 

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। সকাল থেকে গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। চারিদিকে একটা চাপা অন্ধকার। যে-অন্ধকারে ঘরে মন টেকেনা অধরার। ইচ্ছে হয় আয়েজ উদ্দির সাথে দেখা করতে। জানালা খুলে বাইরের দিকে তাকায়। না তেমন বৃষ্টি না। কেন যে আকাশের এই নিয়মহীন অবস্থা তা বুঝতে পারে না অধরা। বিছানায় নিজেকে এলিয়ে দিয়ে ঘুমাবার চেষ্টা করে। পারে না। বারবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে আয়েজ উদ্দির মুখ। এই মুখর বাদল দিনে তার মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত জরুরী। ঘর থেকে বের হয়ে পা টিপে-টিপে যায় মোড়ের মাথায় কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে। গাছটা ফুলে-ফুলে লাল হয়ে আছে। তলায় ঝরা ফুল থাকলেও তা নিতে ইচ্ছা হয় না অধরার। সে নিচু ডালটা লাফ দিয়ে ধরে কয়েকটা ফুল ছিঁড়ে নেয়। অপেক্ষাকৃত বড় ফুলটি খোঁপায় আর ছোট দু'টি কানের ওপর-গোজে। খোঁপা আর কানের ওপর হাত দিয়ে নিজের সৌন্দর্যকে বুঝার চেষ্টা করে। নিজেকে খুব সুন্দর লাগছে। মুচকি হাসে সে। ডালসহ একটা ফোটা ও দুটো আধ ফোটা ফুল হাতে নিয়ে ভিজতে-ভিজতে উপস্থিত হয় আয়েজ উদ্দির বাড়ি। আয়েজ উদ্দি তখন গোয়াল ঘরে গরুকে খাবার দিতে ব্যস্ত। অধরাকে দেখে মুচকি হাসে সে। হাত ইশারা করে বারান্দায় বসতে বলে। অধরা বারান্দায় যায় না। সে গোয়াল ঘরে যেয়ে আয়েজ উদ্দির পাশে দাঁড়ায়। হাতে থাকা ফুলগুলো দেয় তার হাতে। আয়েজ উদ্দি ফুলগুলো অধরার হাতে দিয়ে বলল, তুমি বারান্দায় যেয়ে বসো আমি এই আসলাম বলে।

 

একমাত্র মা ছাড়া আয়েজ উদ্দির আর দুনিয়াতে কেউ নেই। বাবা মারা গেছে কবে সে নিজেও জানেনা। মা অন্ধ।  বছর তিন আগের কথা।  ঠিক আজকের দিনের মতো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল সেদিন। মাঝে-মাঝে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল প্রচন্ড গর্জনে।  হঠাৎ বাজ পড়ে পাশের নারিকেল গাছে। তার আভা এসে লাগে তারাভানুর চোখে। তারপর ডাক্তার কবিরাজ দেখানো হয়েছে সাধ্যমত। কিছুতেই কিছু হয়নি। চোখ দু'টি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এই অন্ধ মাকে নিয়েই আয়েজ উদ্দির সংসার।

-কিডা আসলোরে বাপ? প্রশ্ন তারাভানুর। সে উত্তরের বারান্দার কোনায় বসে হামান দিয়ে পান বেটে মুখে পুরছে একটু পর-পর। অধরার পায়ের শব্দে বুঝতে পারে কেউ হয়তো এসেছে বাড়িতে।

ঝুড়িতে ঘাস দিতে দিতে আয়েজ উদ্দি বলল, মা অধরা আয়ছে।

-অধরা আয়ছে? কই মা আয়, আমার কাছে আয়।

তারাবানুর ডাক অধরার কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। তারাবানু আবারো ডাক দেয়, কই অধরা এদিকে আয়। অধরা তারাবানুর ডাকে উত্তর না দিলেও বারান্দায় উঠে তার পাশে যেয়ে বসে। বৃষ্টি তখনও থামেনি। অধরা ভিজে একাকার। তারাবানু পান বাটা বন্ধ করে অধরার হাতে, গায়ে, মাথায় হাত দেয়। ইস্ ভিজে যে একেবারে জবজবে হয়ে গিছিসরে। গামছা দিয়ে ভালো করে মাথাডা মুছে নে, নয়তো জ্বর আসপেনে। কোলের কাছে রাখা গামছা হাতড়িয়ে নিয়ে অধরার হাতে দেয়। অধরা হাত মোছে, মাথা মোছে। শরীরের সব জায়গা মোছার চেষ্টা করলেও পরনের কাপড় ভিজে থাকে ঠিকই।

উঠানে রাখা পানি ভর্তি বালতিতে হাত কচলিয়ে ধোয় আয়েজ উদ্দি। বারান্দায় উঠে এগিয়ে যায় মায়ের দিকে। পাশে বসা অধরা গামছা এগিয়ে দেয় আয়েজ উদ্দির হাতে। আয়েজ উদ্দি মাথা, হাত মুছে বসে অধরার গা ঘেঁষে। কাদায় তার পায়ের আঙ্গুলের ফাঁক খেয়ে সাদা করে ফেলেছে। সেখানে পচন ধরেছে এখন। আয়েজ উদ্দির পায়ের অবস্থা দেখে অধরার মন খারাপ হয়ে যায়। তার মনের মানুষের পায়ের এ কী হাল! আঙ্গুল ইশারা করে দেখায় পায়ের দিকে। আয়েজ উদ্দি বলে, ওসব কিচ্ছু না। সব ঠিক হয়ে যাবে। অধরার মন মানে না। সে উঠে বারান্দার খুঁটিতে টাঙানো তুতে ভেজানো শিশি নিয়ে আসে। শিশিটা ভালো করে ঝাঁকায়। একটা লম্বা কাঠির মাথায় টুকরো কাপড় জড়িয়ে শিশির ভেতরে ঢোকায়। তারপরে তুতের পানিতে কাপড় ভিজিয়ে আয়েজ উদ্দির দুই পায়ের ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দেয়। তুতের পানি লাগার সাথে-সাথে জ্বলে ওঠে সেখানে। আয়েজ উদ্দি বলে ওঠে, ইশ্। তারাবানু বলল, কী রে বাজান কী হলো?

-না মা; কিচ্ছু না।

-তালি যে ইশ্ করে উঠলি?

-পাগলী মায়েডার কাজ দেহিছো? পা কাদায় খায়ছে বলে পা'য় তুতে দিয়ে দেচ্ছে।

-অধরা তোরে খুব ভালবাসে; তাইতো তোর কষ্ট ও সহ্য এরতি পারে না।

অধরা মুচকি হাসে। সে শব্দ তারাবানুর কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। আয়েজ উদ্দি গামছা মাথায় দিয়ে ঘোমটা দিয়ে অধরাকে বোঝাতে চায় সে বউ হতে চায় কী না। অধরা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ে। আয়েজ উদ্দি অধরার হাত নিয়ে নিজের বুকের ওপর চেপে ধরে। অধরা জিব কামড়িয়ে হাত গুটিয়ে নেয়। আঙ্গুল উঁচিয়ে তারাবানুকে দেখায়। আয়েজ উদ্দি তাকে হাত ইশারা করে বলে মা দেখতে পারে না; সে অন্ধ। অধরা তাকে ইঙ্গিতে বলে, দেখতে না পাক, সেতো মুরব্বী। তোমার মা। আয়েজ উদ্দি আর কথা না বাড়িয়ে নিশ্চুপ থাকে অধরার চোখের দিকে চোখ রেখে।

নীরবতা ভাঙে অধরা। জানতে চায় রাতের রান্না করেছে কী না। আয়েজ উদ্দি না সূচক মাথা নাড়ায়। মায়ের চোখ অন্ধ হবার পর থেকে আয়েজ উদ্দি নিজেই রান্না করে, ঘর গোছায়। মায়ের চোখ দু'টি বাঁচাতে ঝাড়-ফুঁক কম দেওয়া হয়নি। তাহলে কেন এমন হলো? এমন প্রশ্ন এখনও মাঝে-মধ্যে উছলে উঠে মনের মাঝে। তখন স্বান্তনা পায় এই ভেবে যে, মা'র চোখ দুনিয়ার কোন ডাক্তার ঠিক করতে পারবে না। যেখানে হুজুর কেবলা ফুরকান লিল্লাহ সাইয়্যেদিনা আব্দুল করিম মুরসালিন এর ঝাড়-ফুঁকে কাজ হয়নি তখন অন্য ভাবনা করা-ই বৃথা।

 

আয়েজ উদ্দির বাধাকে উপেক্ষা করে রান্না করে অধরা যখন বাড়ির দিকে রওনা হয় তখন গাঁয়ের ঘরে-ঘরে সন্ধ্যার বাতি জ্বলে উঠেছে। আয়েজ উদ্দি এগিয়ে দিতে চাইলেও অধরা তাকে বাধা দিয়ে নিজেই বাড়ি চলে যায়।

 

অন্ধকারকে পেছনে ফেলে অধরা যখন বাড়িতে আসে তখনও বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছিলো। মামী অধরাকে দেখে রাগান্বিত স্বরে বলে ওঠে, তোর কবে বুদ্ধি-শুদ্ধি হবে কদিনি? আমার হয়ছে যত্তো জ্বালা। এই পুড়ামুখী, কোন পাড়ায় ছিলি এত সুময়?

অধরা কিছু বলে না। তার কথা বলার কোন ভাষা নেই। সে মামীর কথা কিছু বুঝেছে, কিছু বুঝিনি হয়তো।

 

বর্ষা শেষ হয়েছে অনেক আগেই। পৌষের আমেজ চারিদিক। ধানের গন্ধে মৌ-মৌ সমস্ত গ্রাম। বাড়ি-বাড়ি নতুন ধানের উৎসব। পৌষ মাস আসার দিন থেকে অধরার মনে বেশি আনন্দ । আয়েজ উদ্দি তাকে বলেছিল নতুন ধান ঘরে এনেই মাকে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে; কথাটা মাস শুরুর দিন থেকে মনের কোণে উঁকি দিচ্ছে থেকে থেকে।

ফুরফুরে বাতাস চারিদিক। আকাশের দক্ষিণ কোণে সামান্য মেঘ দেখা গেলেও তা মিনিট দুই আগে কোথায় যে হারিয়ে যায় কেউ বলতে পারে না। আয়েজ উদ্দি মাকে হাত ধরে নিয়ে আসে অধরাদের বাড়ি। তারাবানু আয়েজ উদ্দির সাথে অধরার বিয়ের কথা বললে মামা অমত করে না; বরং খুশি হয়। সামনের শনিবার বিয়ের দিন ধার্য হয়। বিয়ের দিন ঠিক হওয়ায় আনন্দে চোখ ছলছল করে ওঠে অধরার। সে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতে থাকে রাত দিন।

 

আয়েজ উদ্দির আপনজন বলতে তেমন কেউ নেই; মা ছাড়া। অন্ধ মা'কে নিয়ে কষ্টের মধ্যে থাকলেও সে কষ্ট হারিয়ে যায় মায়ের মুখে হাসি দেখার সাথে-সাথে। বিয়ের কেনাকাটার জন্যে গঞ্জে যায় আয়েজ উদ্দি। যাবার সময় অধরার সাথে দেখা করে যেতে ভোলে না। এমনকি ফেরার পথেও দেখা করে যাবার কথা তার।

 

তখন সন্ধ্যা ঘোর। অধরা বারান্দায় বসে আছে পথের দিকে চেয়ে। আয়েজ উদ্দি ফেরে না। লোকটার কী এমন কেনাকাটা যে দেরি হচ্ছে! তা দেরি হবেইবা না কেন? বিয়ের বাজার, দেরিতো একটু হবেই। মনে-মনে ভাবে অধরা। বাড়ির পাশ দিয়ে গঞ্জে যাবার একমাত্র রাস্তা। সে রাস্তা দিয়ে লোকজন চলাফেরা করে সারাক্ষণ। হঠ্যাৎ করে একজন লোক এসে অধরাকে জানায় গঞ্জে যাবার পথে আয়েজ উদ্দি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। সেও একই গাড়িতে ছিল। কানে বেশি না শুনলেও এই কথা স্পষ্ট শুনতে পায় অধরা। কিছু না বুঝেই সে বারান্দা থেকে নেমে অন্ধকারের ভেতর দিয়ে নদীর কূলে এসে দাঁড়ায়। সামনে বিশাল নদী। ঢেউয়ের গর্জন এসে কানে লাগে অধরার। তার মনে পড়ে আয়েজ উদ্দির কথা। বেঁচে থাকার কথা। আয়েজ উদ্দির বুকে মাথা রেখে সে অনেকবার স্বপ্নে আকাশ ছুঁয়েছে, বৃষ্টি বিলাস করেছে। আজ আয়েজ উদ্দি নেই! সে নদীর গর্জনের মধ্যে আয়েজ উদ্দির ডাক শুনতে পায়, আয়েজ উদ্দি তাকে যেন অধরা বলে ডাকছে। অধরা এক পা দু'পা করে এগিয়ে যায় নদীর পানির দিকে।

 

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস,

কি ঘটনা ঘটে গেছে জীবনে

যা দু'জনে জানিবারে পায়নি অবকাশ!

 

গাড়ি দুর্ঘটনা হয়েছিল ঠিকই। দু'জন মারাও যায়। ভাগ্যক্রমে আয়েজ উদ্দির কিছু হয়নি। সে বিয়ের কেনাকাটা সেরে যখন গাঁয়ে ফেরে তখন আকাশ-জোড়া পূর্ণিমার চাঁদ। অধরাকে খোঁজে সে। কোথাও নেই অধরা। এক দিন, দুই দিন, এক বছর, দু'বছর।

 

২৯ সেপ্টেম্বর ২০০৯

 

 

 

 

 

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options