• উপকূল ছেড়ে লবনাক্ততা আরও ভেতরে ঢুকছে বাংলাদেশে
    মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান

    বঙ্গোপসাগরের লবন পানি বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে পড়ছে। এর ফলে ধান-সহ অন্যান্য কৃষি পন্যের উপরের মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। লোনা পানি ঢুকে পড়া জেলাগুলোতে চলতি মওসুমে রোপা-আমন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে কি পরিমান ফসল লবনাক্তের কারণে ক্ষতির মধ্যে পড়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না কৃষি দপ্তর।

    সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নড়াইল, মাগুরা, গোপালগঞ্জ ও খুলনার পূর্বাংশে ইতিমধ্যে সাগরে লোনা পানি প্রবেশ করেছে; ফলে এসব অঞ্চলে চলতি রোপা-আমনে ব্যাপক ধ্বস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে নিম্ন-ভূমি প্লাবিত হবার ফলে সাগরের নোনা জল খুব সহজেই ঢুকে যাচ্ছে বাংলাদেশের আরও গভীরে। মধুমতি, নবগঙ্গা ও চিত্রা নদীতে এবার সাগরের লবন পানির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই নদী তিনটি নড়াইল জেলার সেচ-কাজ থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে জড়িত। এই নদীগুলোকে ঘিরে অনেক উপকথা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে নিত্য-দিনকার জীবন চলায় এদের অনস্বীকার্য ভূমিকা। নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার শতবর্ষের পুরানো স্কুল লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন, 'নবগঙ্গায় লবন জল এ-আমরা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারি না। আমরা এখনি বলতে পারছি না আমাদের এই অঞ্চলের ভবিষৎ কি হবে।'

    ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে সেখানে ধান ও কৃষি আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। হিসাবমতে, পিরোজপুর জেলার ২১ শতাংশ জমিই লবনাক্ততার কবলে পড়েছে। ফলে জেলাটির ৮৬ হাজার ৫৬ হেক্টর আবাদী জমির মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধান-সহ অন্যান্য কৃষি ফসল

    উৎপাদন কমে যাবে বলে মনে করছেন জেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা। নড়াইল জেলার প্রধান নদী মধুমতিতেও এবার সাগরের লবনাক্ত পানি ঢুকে পড়েছে। লবনাক্ততার ফলে জেলার লোহাগড়া ও  কালিয়া থানার বিস্তীর্ন এলাকার চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু মধুমতি নদী নয় নড়াইলের চিত্রা নদীতেও এবার লবনাক্ত পানির খোঁজ পাওয়া গেছে। অথচ সাগর থেকে এই জেলার নৌ পথে দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটারের মত। একইভাবে গোপালগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ন এলাকায় সাগরের লবনাক্ত পানি ঢুকে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারনা, সাগরের লোনা পানি শুধু কৃষি ব্যবস্থাকেই ভেঙে দেবে তা নয়, ভেঙে পড়বে এই বিস্তীর্ণ এলাকার জীব-বৈচিত্র। লবনাক্ততার জেরে নদীগুলোতে এখন যে-সব প্রজাতির মিঠা পানির মাছ পাওয়া যায় তা কমতে থাকবে ভবিষ্যতে। এছাড়া জলজ শ্যাওলা থেকে শুরু করে অন্যান্য জলজ উদ্ভিদও মরে যাবে। এমনকি লবনাক্ততা কারণে পুরো এলাকার মানুষের ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ফটৌ-পরিচিতিঃ ১.গোপালগঞ্জ ও নড়াইলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদী; ২.নড়াইলের লোহাগড়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদী

    ফটৌ-সৌজন্যঃ রিভার লভিং পিপল   

    ২৫/১১/০৯

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন