আমাদের জীবন চলে যায়
আমাদের ছেড়ে
ক্ষেত খামার ফসলের গা বেয়ে চলে যায়
চলে যায় কিশোরী মেয়ের বুক চিরে
আমাদের জীবন চলে যায় আমাদের ছেড়ে
প্রতিরাতে তেড়ে আসে শুয়োরমুখো ক্রসফায়ার
প্রতিরাতে চুরি যায় আমাদের স্বপ্ন।
তবুও নিয়ম করে বাচ্চা পয়দা হয়
ক্ষুধার জঞ্জালে জন্ম নেয় অপুষ্ট শিশু
বাপের আজন্ম ক্ষুধায় জন্ম নেওয়া বোনেরা আমার
শহর থেকে শহর দাবড়ে বারবনিতা হয়ে ফেরে
আমরা তাদের চটকাই ময়দা মাখার মত
আমরা তাদের ছুঁড়ে ফেলি ব্যবহৃত কনডমের মত
আর যারা প্রতিবাদ করে কিম্বা নেহাত কবি ভবঘুরে
গোপন অস্ত্রের মত স্বপ্ন লুকিয়ে রাখে
অভাবের মগজে তারা একে একে কাটা যায়
কলে পড়া যন্ত্রের মত রাজার কালো কালো সান্ত্রিদের ক্রসফায়ারে।
আমাদের স্বপ্ন চুরি যায় প্রতিদিন প্রতিরাতে।
গ্রাম দূর হতে গ্রামান্তরে চলে গেছে সখিনা শেফালিরা
পাশের বাড়ির হিন্দু দিদিমনি রোজ সন্ধ্যায় সীতার বনবাস
পড়তে পড়তে যার চোখের কোনে জল চিক চিক করে উঠতো
মনে তার আজন্ম সীতা হাওয়ার সাধ
তার গতরে ঢুকে যায় ভিন ধর্মের রক্ত। রক্ত না পাপ!
আহা! আমার রক্ত করবির ফুল, তুমি কোন বাগানে ফোটোগো
দিদি আমার সীতার মত অগ্নিপরীক্ষা পাশ না ফেল দিয়ে
ঝুলে পড়ে আম কাঁঠালের ডালে।
চুরি গেছে স্বপ্ন বয়সও বেড়ে গেছে
শুধু শৈশবের চির অবাধ্য রঙ খেপাটে
ঝড়ের মত একবার ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করে শহরের সব ইমারত
যারা ভালো আছে যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে
তাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলতে ইচ্ছে করে
মানুষ এইভাবে বাঁচেনা।
২৪/১০/১০


কবিতার
কবিতার ব্যাকরণ রক্ষা হয়েছে কিনা জানিনা, কিন্তু পড়ে মনে হয়েছে একটি কবিতা পড়লাম। সুন্দর পরিমিতিবোধ।
কম-পঠিত কবি বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীরের কবিতাতে এরকম স্বাদ পেয়েছি এক সময়।