London Sunday 1 August 2010

লারমা, রায় ও দ্রংয়ের উপরে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং-এর উপর হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের দাবীতে দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৭ ফেব্রয়ারী বেলা ১১টায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানব বন্ধনে বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকার কর্মী, আদিবাসী অধিকার কর্মী, ছাত্র-যুব কর্মী, নারী অধিকার কর্মী, উন্নয়ন কর্মী, জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ দেড় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অজয় রায় ও সহ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স,  বাংলাদেশ আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এইচ কে এস আরেফিন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত, বাসদের প্রেসিডিয়াম সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন ও কেন্দ্রীয় সদস্য জাহেদুল হক মিলু, উবিনিগ ও সম্মিলিত নারী সমাজ এর সভাপতি ফরিদা আক্তার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বুলা ওসমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমা প্রমুখ। এছাড়া ও মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি, এএলআরডি, সম্প্রীতি মঞ্চ, আইইডি, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ সংগঠন।  

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কাজের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভায় যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে গত ২৭ জানুয়ারী ২০১০ রাঙ্গামাটি থেকে খাগড়াছড়িতে যাওয়ার পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা এবং চাকমা সার্কেল চীফ রাজা দেবাশীষ রায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হন। হামলাকালে সন্ত্রাসীরা গাড়ী বহরের উপরও গুলি ছোঁড়ে।

এছাড়া, গত ২২ জানুয়ারী ২০১০ নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুর উপজেলাধীন রানীখং বহেরাতলী ক্যাথলিক মিশনের শতবর্ষপূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভায় অংশগ্রহণ শেষে মটর সাইকেল যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিরিশিরিতে ফেরার পথে রাণীখং এলাকার রাশিমনি স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট আদিবাসী লেখক সঞ্জীব দ্রং ও তাঁর স্ত্রী মিতালী চিসিম-এর উপর একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে বর্বরোচিত আক্রমণ করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে।  

মানববন্ধনে সমাপনী বক্তব্যে পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করতে যাচ্ছি। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় কি পদক্ষেপ নেন তা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করবো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় কোন পদক্ষেপ না নিলে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আরো কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান। মানববন্ধন শেষে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে স্মারক লিপিটি জমা দেন পংকজ ভট্টাচার্য, রোবায়েত ফেরদৌস, রুহিন হোসেন প্রিন্স ও মঙ্গল কুমার চাকমা। স্মারকলিপিতে নীচের দাবীগুলো তুলে ধরা হয়ঃ

(১)  অচিরেই জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, রাজা দেবাশীষ রায় ও সঞ্জীব দ্রং-এর উপর বর্বরোচিত হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা (২)    হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং হামলার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে অচিরেই গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা (৩)জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, রাজা দেবাশীষ রায় ও সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ আদিবাসী নেতৃবৃন্দসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন, মান ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা (৪)  পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা এবং এলক্ষ্যে সময়সূচী ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা (৫)পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করে সমতল অঞ্চলের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভূমি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা।  

বার্তা প্রেরক হিরন মিত্র চাকমা  

০৭/০২/১০

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options