• মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমন ছিলো আত্মরক্ষামূলকঃ দাবী কারাদজিকের

    ব্যাপক সংখ্যক মুসলিম হত্যাকে আত্মরক্ষামূলক কার্য হিসাবে দাবী করেছেন সাবেক বসনীয় সার্ব নেতা রাদোভান কারাদজিক (৬৪)। সোমবার সকালে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে জাতিসংঘ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালের সামনে এ-বক্তব্য হাজির করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইউরৌপে সবচেয়ে বড় গণ-হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এই ব্যক্তি। মুসলমান ও ক্রোয়েশিয়দের নিশ্চিহ্ন করে পূর্ব বসনীয়াতে একটি সার্বিয়ান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টার দায়ে কারাদজিকের বিচার চলছে।

    মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সোমবার বক্তব্য দান-কালে কারাদজিক দাবী করেন যে তার জনগন বসনিয়াতে যুদ্ধের সূচনাকারী মুসলিম মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছে। মুসলিমরা ক্ষমতার ভাগাভাগি সংক্রান্ত প্রস্তাব মেনে নিতে অস্বীকার করার কারণেই ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল ব্যাপী বসনীয় যুদ্ধের শুরু হয় বলে দাবী করেন তিনি। জাতিসংঘের আদালতে উত্থাপিত গণ-হত্যা বিষয়ক দুইটি অভিযোগ অস্বীকার করে এই সার্ব নেতা জানান তারা যা করেছিলেন তা ছিলো 'নায্য ও পবিত্র'। গণ-হত্যা ছাড়া হত্যাকান্ড পরিচালনা, ধ্বংস-সাধন, ধর্ম-বিশ্বাসের কারণে শাস্তিদান, বল-পূর্বক  উচ্ছেদ, জাতিসংঘের দুইশত কর্মীকে জিম্মি ঘটনা-সহ অপর নয়টি অভিযোগও প্রত্যাখান করেছেন কারাদজিক। নিজের কৃতকর্মের সমর্থনে কারাদিজক আরও দাবী করেন যে মুসলিমদের হাতে সার্বীয়দের প্রানহানী ও সহিংসার শিকার হবার কারণেই তাদেরকে পাল্টা-ব্যবস্থা নিতে হয়েছিলো। এছাড়াও বলকান অঞ্চলে অস্ত্র আমদানী সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাটি গোপনে লঙ্ঘন করে সার্বীয়দের শত্রুদের হাতে অস্ত্র আসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য পশ্চিমা বিশ্বকে দায়ী করেন তিনি।

    এদিকে, আদালতের প্রসিকিউটররা জানান একটি 'বিশুদ্ধ' সার্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্টার আকাঙ্খা দ্বারা তাড়িত হয়ে মুসলিম ও ক্রোয়েশীয়দের নিধনে নেমেছিলেন কারাদজিক। বসনীয় যুদ্ধের সময় রাজধানী সারায়েভো ৪৪-মাস ধরে কারাদজিক বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ ছিলো। শুধুমাত্র ১৯৯৫ জুলাই মাসের একটি সপ্তাহেই তাদের হাতে প্রান হারিয়েছিলেন ৮ হাজার মুসলিম।

    বসনীয়ার যুদ্ধে উভয় পক্ষ মিলিয়ে এক লক্ষের মত মানুষ প্রান হারান। ১৩ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ২০০৮ সালের শেষ দিকে বেলগ্রেড থেকে ছদ্মবেশধারী কারাদজিককে গ্রেফতার করা হয়। কারাদজিক তার গ্রেফতার হবার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন একাধিকবার।  

    ০১/০৩/১০

     

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন