বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের মানবাধিকার সংরক্ষণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবীতে ২৮ ফেব্রুয়ারী, রোববার, বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সমাবেশ ও মানব-বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনারের পাদদেশে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বেশ কিছু আদিবাসী ও বাঙালী আলতাব আলী পার্কে উপস্থিত হন।
কর্মসূচির শুরুতে প্রারম্ভিক বক্তব্যে মনজুরুল আজিম পলাশ বলেন, আদিবাসীদের জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রম রক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। অনুষ্ঠান পরিচালনার শুরুতে লিসা গাজী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আমরা উদ্বিঘ্ন। আমরা দলমত নির্বিশেষে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-প্রতিষ্ঠার অংশ হিসাবে লন্ডনের কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি বর্ণনা করে জুম্ম নেটওয়ার্ক ইউকে এর লাল আমলাই বলেন, গত ১৯-২৩ ফেব্রুয়ারী পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির একাধিক স্থানে আদিবাসীদের উপর যে আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে তাতে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। আমলাই জানান হত্যাকান্ডের ঘটনা ছাড়াও আদিবাসীদের তিনটি বৌদ্ধ মন্দির, একটি চার্চ, দুই শতাধিক বাড়ী-ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হামলাকারীদের ভয়ে হাজার-হাজার আদিবাসী ঘর ছেড়ে জঙ্গলে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আব্বাস ফয়েজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা উদ্বিঘ্ন। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরুতে যে ঘটনা ঘটেছিলো তাতে

আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিলো না। বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে শান্তি বিনষ্টকারীদের সাজা দেয়া।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে একটি দাবীনামা পাঠ করেন শিরিন লিরা। পাঠ শেষে দাবীনামাটিতে উপস্থিত লোকজনের সাক্ষর নেয়া হয়। দাবীনামাটি পরে দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়।
রোববারের কর্মসূচিতে বিলেতের বাঙালীদের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংষ্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-প্রতিষ্ঠার দাবীতে আয়োজিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলার শহীদ আলী; সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা; সাংষ্কৃতিক কর্মী মঞ্জুলিকা জামালী, অনন্ত কাশেম; ঢাবি শিক্ষক শান্তনু মজুমদার; ওয়ার্কার্স পার্টির ওয়ালি রহমান, কমিউনিস্ট পার্টির ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর হারুন-ওর-রশিদ, গোলাম আকবর মুক্তা; জাসদের সৈয়দ আবুল মনসুর লিলু; বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের খাদিজা রহমান, শোয়েব চমক; লেখক তাহনিমা আনাম; নাট্যকার মুকুল আহমেদ; সাংষ্কৃতিক কর্মী ঝরা, সোহেনী, নবনিতা প্রমুখ।
সবশেষে আয়োজকদের পক্ষে ফয়সাল গাজী সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।
০৩/০৩/১০


I'm expressing my solidarity
I'm expressing my solidarity with the jumma people as a Bengali.