• আত্ম দহনের কালঃ এক
    মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান

    আজ প্রার্থনা করি নতজানু ফলবতি ধানের মত
    প্রার্থনা করি সারা রাত বৃষ্টির পর যেমন জেগে উঠে
    মৃত শহর ও শহুরেরা
    প্রার্থনা করি দোহাই তোমার লাল কমল আর নীল কমল
    আসমানি সাদা বেগুনী
    প্রার্থনা করি জগত ও জগত-এর ভেতর বাহিরে
    আজ তুমি প্রার্থনা গ্রহণ কর
    ধ্যানীকে দাও জ্ঞান
    কৃষককে শষ্য
    আমারে পথ বাতলায় দেও
    কোন পথে গেলে তোমার দেখা হবে না
    অন্তর্গত নারীর স্মৃতি কাতরতায় ডুবে
    সংসারের প্রয়োজনীয় কাজে বিরতি দিতে হবে না।

    কোন পথে গেলে শষ্যরা পায়ে চুম্বন দিবে
    চিতল মাছের ডানায় ভর করে
    কোন নদী ছুটে যাবে
    কোন বনে অবিশ্বাসী সাপের বাস নেই

    আমার প্রার্থনা গ্রহণ কর
    নর কিম্বা নারীর প্রসঙ্গ যেখানে অবান্তর
    আর যদি মুক্তি না দাও
    তবে আসো এ্যাঁটেল মাটির সরের সাথে
    মিশে যায় যেমন শৈল জিরলের দেহ
    ভাটি ফুলের সাদা সাদা গতরে
    যেমন থাকে শিশির
    পৌষের জারে নিজের গতরের চেয়ে
    আপন হয় যখন হালের বলদ
    আমাকে গ্রহণ কর
    তোমার পাঁজরে পাঁজরে।

    ১৬/০৩/১০

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

কবিতা পড়তে পড়তে আমিও যেন আপনার মতই প্রার্থনা করছিলাম। উপমাগুলো অসাধারন...কিন্তু প্রার্থনা কী কেবলই সৃষ্টিকর্তার কাছে?

আমি মো. আরিফুজ্জামানের এ যাবত যত কবিতা পড়েছি তা প্রায়শ দীর্ঘ কবিতার অবয়ব পেয়ে থাকে, বর্ণনা মূলক। যে কবিতাটা দীর্ঘ না তার বেলায়ও দীর্ঘ, ব্যপ্ত একটি শ্বাস নিতে হয়, এটাই তার মুন্সিয়ানা। তার কবিতা পাঠে হঠাৎ হঠাৎ পা পিছলে পড়ি, ইতিহাসের, বাস্তবতার ভেতর পাঠক হিসেবে আত্মরতিময় আটকে যাই, যেন কালান্তরের এপিঠ ওপিঠ সমস্তই দহ, ক্ষত আর তার ভেতর আমার-তোমার জীবনের বহু লাশ বয়ে বেড়ানো। ঘোর ফেলার, মগজে চোট দেবার বেলায় কবি কবিতা বর্ণনে যে যে ব্যাপ্তি নেন- এ কবিতার বেলায় তা অভাব বোধ করেছি। লম্বালম্বি হলেই ভালো কবিতা আমি তা বলতে চাইছি না। আরিফের ছোট আয়তনের কবিতায়ও, ছোট্ট পরিসরেও তিনি যথার্থ উপলব্ধির আদল দিতে পারেন। কিন্তু এ কবিতায় ধারাবাহিক ভাবে, ধীরে ধীরে প্রেক্ষাপটের মধ্যে প্রবেশের যে আস্বাদনযোগ্যতা তা ছুট হয়েছে।
যাই হোক, এক কথায় ক্ষণিক ও যন্ত্রনার এ জীবনে মানুষ হিসেবে হার-না মানার কবিতাই এক অর্থে জীবনের কবিতা। জীবন-যাপনহীন এর বাইরে কবিতার কোন মূল্যমান নেই। কবিকে কবিতার লয় খেয়াল করার অনুরোধ জানাই, যা তার অন্যান্য কবিতায় পাই। এ কবিতাটি হুট হাট শুরু ও শেষ হলো যেন।

জয়তু কবি
কবিতাটি যে কেমন।
প্রার্থনা সঙ্গীতের মত, তবু প্রার্থনা নয়। আমারে কেমন যানি আউলা বানাই দিলো।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন