• পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং শাসক শ্রেণীর দায়বদ্ধতা
    উৎপল খীসা

    অতি সম্প্রতি রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে আবারো নিরাপরাধ সাধারণ পাহাড়িদের উপর হামলা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে খাগড়াছড়িতেও ঘটনার বিস্তৃতি ঘটেছে। এটা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা সমূহের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন-নির্যাতনের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ঘটনা। ভারতীয় উপমহাদেশে বৃটিশদের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে এর বিস্তৃতি লাভ করেছে। গণতান্ত্রিক নামধারী রাষ্ট্রে যখন সত্যিকার অর্থে গনতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার মুক্ত প্রক্রিয়া স্তিমিত হয়ে পড়ে, তখনই এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘঠনা ঘটে এবং সর্বত্রই মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে। এতে প্রশাসনের নাকের ডগায় নিরীহ জনগণের উপর হামলা, অত্যাচার, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট ও জ্বালাও পোড়াও মত প্রভৃতি নির্মম ঘটনা ঘটতে থাকে। তারপর চলে নানা হা-হুতাশ, আশ্বাস বাণী, বক্তব্য, বিবৃতি, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, যুক্তি, পাল্টা যুক্তি খাড়া করার মত এক ধরনের আপাত মূল্যহীন প্রতিযোগিতা। যেমনটি আমরা উল্লেখিত ঘটনায় দেখতে পেয়েছি এবং এখনো পাচ্ছি - নিরাপরাধ সাধারণ পাহাড়ী জনগণের জীবনহানি ও সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ার মাধ্যমে। যদিও এ প্রতিহিংসামূলক আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়েছেন কিছু সাধারণ বাঙালীও। এ ঘটনার জন্য আমি সত্যিই ব্যথিত এবং লজ্জিত।

    বলা বাহুল্য যে, এদেশের একজন সচেতন নাগরিক এবং ঐ অঞ্চলের চাকমা জাতি গোষ্ঠীর একজন অধিবাসী হিসেবে আমিও অনেকের মত সংঘঠিত ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতিকে অনুধাবন করার চেষ্টা করেছি এবং তারই আলোকে এখানে সংক্ষিপ্তাকারে আমার মতামত ব্যক্ত করছি। এখানে প্রথমেই বলে রাখা উচিত, আমার এ লেখাটি তুলে ধরছি ঘটনার পরবর্তী সময়ে মিডিয়ায় (পত্র পত্রিকা, টেলিভীশন) প্রকাশিত ও প্রচারিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে এবং ঘটনায় শিকার নিকটজনদের সাথে মোবাইলে সরাসরি কথোপকথন এর অভিজ্ঞতার আলোকে। সর্বোপরি ঐ অঞ্চলের চাকমা সম্প্রদায়ভুক্ত একজন ৩৫ বছর বয়স্ক অধিবাসী হিসেবে জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতায় এবং এদেশের একজন অধিকার বঞ্চিত নাগরিক হিসেবে। অহেতুক বির্তক নয়, প্রকৃত ঘটনা খোলাসা করাই আমার এ-লেখার মূল উদ্দেশ্য। কারণ আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, উল্লেখিত ঘটনায় সত্যিকার অর্থে যা ঘটানো হয়েছে, অতীতের ধারাবাহিকতায় তা এবারও অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এড়িয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে এবং হচ্ছে। এখানে আরো একটি কথা না বললে নয়, অনেকেই এ ঘটনাকে পাহাড়ী-বাঙালীর মুখোমুখি সংঘাত হিসেবে চালিয়ে দিলেও প্রকৃত পক্ষে এটি হচ্ছে সাধারণ পাহাড়ীদের উপর সেনা মদদপুষ্ট শাসক শ্রেণীর সাম্প্রদায়িক হামলার মত একটি ন্যাক্কারজনক ও জঘন্যতম ঘটনা। যারা নিয়মিত মিডিয়া কাভারেজ মনোযোগ সহকারে পাঠ করেছেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অতীত ইতিহাস নিয়ে ধারণা রাখেন, আশা করি তাদের কাছে এটি দিবালোকের মত স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে।

    আমার এই লেখার মূল বক্তব্যের শুরুতেই আমি ধন্যবাদ জানাই সাংবাদিক ও কলামিষ্ট আতাউস সামাদ, হারুন হাবীব, শিক্ষক আনু মুহাম্মদ ও ড. তারেক শামসুর রেহমান এর মত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্বদের। কারণ, এদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে তাঁরা এই ঘটনার জন্য নিজ-নিজ অবস্থান থেকে ব্যথিত হয়েছেন এবং নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন। এতে ঘটনার প্রেক্ষাপট অন্তত কিছুটা হলেও স্পষ্ট হয়েছে এবং নিঃসন্দেহে আমার মত একজন সাধারণ ব্যক্তিকে ঘটনা সম্পর্কে নিজস্ব মতামত প্রকাশের জন্য পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করেছেন। আমি মনে করি, উনাদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং প্রসঙ্গ টেনেই এদেশের সকল নাগরিককে আমার বিনীতভাবে বলা উচিত, উল্লেখিত ঘটনায় আদতে কি হয়েছে, কেনই বা ঘটনাটি সংঘঠিত হয়েছে কিংবা এর মূল কারণ আসলে কোথায় নিহিত রয়েছে। যাই হোক, ঘটনার সামগ্রিক প্রক্রিয়াটাকে বোঝার জন্য আমি প্রশ্নাকারে আমার মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

    মিডিয়ার কল্যানে আমরা আবারো জেনেছি, ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ-ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। এজন্যে কেউ-কেউ অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে পাহাড়ীদের উপর দোষারোপ করেছেন। তাদের মতে, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের উস্কানির কারণেই উল্লেখিত ঘটনাটি ঘটেছে। যদি তাই হয়, তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কেউ উস্কানি দিলেই তাদের উপর হামলা করতে হবে কিংবা কথিত সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের নামে একেবারেই নিরাপরাধ পাহাড়ীদের উপর নির্বিচারে গুলি ছোড়ার মাধ্যমে হামলার মত জঘন্য অন্যায় অপরাধ করতে হবে তা কি আসলেই গ্রহণযোগ্য? আর পাহাড়ের এই ভূমি বিরোধ আসলে কারা সৃষ্টি করেছে? পাহাড়ীরা নাকি বাঙালীরা? আরো সুনিদিষ্টভাবে বললে পাহাড়ী শাসক শ্রেণী নাকি বাঙালী শাসক শ্রেণী? কই, আমি তো কখনো শুনিনি যে, বাংলাদেশের সমতলের কোন জেলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পার্বত্য চট্রগ্রামের কয়েক লক্ষ পাহাড়ীকে কিংবা বাঙালীকে পুর্নবাসন করা হয়েছে কিংবা কোথাও কোন বাঙালী জমি পাহাড়ীরা জবর দখল করেছেন? আর ঘটনা ঘটলেই সেনাবাহিনীর গুলিতে বারবার নিরাপরাধ ও অসহায় পাহাড়ীরা মারা পড়েন কেনো? কেন পাহাড়ীরা গণ-গ্রেপ্তার হন? কারা একতরফাভাবে তাদের গণগ্রেপ্তার করেন? আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে কেন বরাবরই পুলিশ বাহিনী নির্বিকার থাকে? পুলিশ বাহিনী কি ব্যর্থ? নাকি কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাদেরকে ব্যর্থ প্রতিপন্ন করতে বার বার অপচেষ্টা করা হয়? আর কেনই বা পাহাড়ীদের উপর পূর্ব পরিকল্পিত হামলাকে পাহাড়ী-বাঙালী সংঘাত বলে চালানো হচ্ছে? এটা কি সত্যিকার অর্থে পাহাড়ী-বাঙালীর মুখোমুখি সংঘাত-সংঘর্ষ ? নাকি পাহাড়ীদের উপর বাঙালী শাসক শ্রেণীর সংঘবদ্ধ সাম্প্রদায়িক হামলা?

    আমরাতো জানি, যখন বিদ্যমান দুটো পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘাত হয়, তখন উভয় পক্ষের লোকজনই কমবেশী হতাহত হন। ইতিহাসই আমাদের এ সাক্ষ্য দেয়। বাঘাইছড়িতে কি তাই হয়েছে? কই, সেখানে তো দেখলাম, একতরফাভাবে শুধু পাহাড়ীরা নিহত হয়েছেন। আর তা না হবেনই বা কেন? কারণ সাধারণ নিরাপরাধ পাহাড়ীদের উপরই তো প্রথমে সেনা-মদদ পুষ্ট সেটেলার বাঙ্গালীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক হামলা চালিয়েছেন। অবশেষে কোন উপায়ান্তর না দেখে পাহাড়ীরা যখন নিজেদের জানমাল রক্ষার তাগিদে প্রতিরোধ করতে শুরু করেন, ঠিক তখনই সেনা-সদস্যরা নির্বিচারে গুলিবর্ষন করেন। এতে ঘটনাস্থলেই অসহায় বুদ্দ পুদি চাকমা নাবালক সন্তানদের অকুল পাথারে রেখে নির্মমভাবে প্রাণ হারান। আর এই সত্যি ঘটনাকে আড়াল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে রটানো হয়েছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী কর্তৃক সেটেলারদের উপর অতর্কিত হামলার মত জঘন্য মিথ্যে গল্প এবং এটাকে সকলের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য পরবর্তীতে অত্যন্ত চাতুর্যতার সাথে মঞ্চস্থ করা হয়েছে পূর্ব-নির্ধারিত ট্র্যাজেডি-নাটক, যেখানে পুনর্বাসিত বাঙ্গালী সেটেলাররা নিজেরাই নিজেদের মধ্যেকার প্রতিপক্ষের কিছু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নিরাপরাধ পাহাড়ীদের উপর দোষ চাপাচ্ছেন এবং অবলীলাই পার পেয়ে যাচ্ছেন। আর এই পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলাকে আপনাদের মধ্যে অনেকেই বলছেন, পাহাড়ী-বাঙালী সংঘাত-সংঘর্ষ। এটা কি শাসক শ্রেণীর অপকর্মকে আড়াল করার অপচেষ্টা নয়? নাকি এরই মাধ্যমে আপনারা অবশিষ্ট সাধারণ পাহাড়ী-বাঙালীদের মধ্যেও একইভাবে সাম্প্রদায়িক দ্বন্ধ-সংঘাত-সংঘর্ষের চেতনার বিস্তৃতি ঘটাতে চান? আর তা যদি না হয়, তাহলে খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারার মধ্যে কেন পাহাড়ীদের ধাওয়া আর গণ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল? আর সে সুযোগেই বা কেন ঝাঁকে-ঝাঁকে বাঙালী সন্ত্রাসী কর্তৃক নিরাপরাধ পাহাড়ীদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হলো? তাদেরকে তখন কেন গ্রেপ্তার করা হলো না? কি অপরাধ করেছিলেন অধ্যাপক মধু মঙ্গল চাকমার মত সরকারী অবসর প্রাপ্ত শ্রদ্ধাভাজন ও নিরাপরাধ পাহাড়ীরা। কেনো ৫০/৬০ জন পাহাড়ীকে গণ-গ্রেপ্তারের বদৌলতে শেষমেষ লোক দেখানোভাবে মাত্র ৮/৯ জন বাঙালীকে গ্রেপ্তার করা হলো? কেন একই সময়ে পাহাড়ীদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্য মিডিয়ায় নিষিদ্ধ করে রাস্তায় টায়ার পোড়ানো দৃশ্য দেখানো হলো? কেন কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হলো? কারা এই হামলা করেছে? পাহাড়ীরা নাকি বাঙ্গালীরা? কেন অন্যান্য এলাকা হতে খাগড়াছড়িতে গাড়ি-যোগে ঝাঁকে-ঝাঁকে বাঙালী অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দেয়া হলো? আর পাহাড়ীদের ব্যবসা করা কি অপরাধ? কিংবা পাহাড়ীরা যদি নিজেদের দোকান থেকে মালামাল ক্রয় করেন এবং স্থানীয় নির্যাতক সেটেলার বাঙালীদের কাছ থেকে মাল না কেনেন, তাহলে সেটাও কি অপরাধ? তাই যদি না হয়, তাহলে জনৈক সেনা-সদস্য অহেতুক কেন সংঘাতের পেছনে এমন যুক্তি দেখালেন যে, বাঙ্গালী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মালামাল ক্রয় না করার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে?

    আমরা সকলেই স্পষ্টভাবে জানি, পাহাড়ীরা নিজেদের দোকান থেকে মালামাল ক্রয় করুক কিংবা বিক্রয় করুক তার প্রায় সবই দেশের কোন না কোন বাঙালী কৃষক-শ্রমিকের উৎপাদিত পণ্য। কারণ পাহাড়ীদের ধান, চাল, আদা, হলুদ ও কিছু ফলমূল উৎপাদন ছাড়া অন্য কোন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদনের সক্ষমতা একেবারে নেই বললেই চলে। তাহলে কেন এ হামলা হলো? যদি সত্যিকার অর্থে ইউপিডিএফ নামধারী সন্ত্রাসীরা আর্মি ও নিরাপরাধ বাঙালীদের উপর গুলি ছোঁড়েন, তাহলে কেন বাঘাইছড়িতে কোন আর্মি কিংবা বাঙালী গুলিবিদ্ধ হলো না? আর আর্মিরাই বা কেন সন্ত্রাসীদের ধরতে বা গুলি বিদ্ধ করতে পারলেন না? তা না করে কেন নিরাপরাধ পাহাড়ীদের উপর নির্দয়ভাবে গুলি চালানো হলো? এটা কি পাহাড়ে সেনাবাহিনীর সফলতার সত্যিকার নমুনা?

    ঘটনা পরম্পরার সবকিছুতে সত্যিই অবাক লাগে! আর তার চেয়েও ঢের বেশী অবাক লাগে, যখন দেখি, এত কিছুর পরেও আমাদের দেশের কোন কোন বিবেকবান নাগরিক যখন যা করণীয় তা না করে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করেন। যেখানে পাহাড়ীদের উপর একটার পর একটা সাম্প্রদায়িক হামলা, উত্তেজনার বিষ বাষ্প ছড়ানো হচ্ছে, সেখানে “আদিবাসী” শব্দটি নিয়ে এরা আপত্তি তুলছেন। যখন তুলছেনই তো বলি, কেন আমার পরিচয়টি অন্যের উপর নির্ভর করবে? কেন আমি আমার নিজের পরিচয়টি নিজে নিজেই নির্ধারণ করতে পারবো না? আপনারা কি অধিপতি জাতি বলেই? নাকি আমরা দেখতে ঠিক আপনাদের মত নয় বলেই?

    আর কেনইবা আপনারা আমাদেরকে ‘উপজাতি’ বলছেন? ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী শাসকরা বলেছেন বলেই? আপনারাও কি নিজেদের সেভাবে পরিচিতি করাতে চান? যদি সত্যিই তা চান, তাহলে আপনাদের মুখে মানবিকতা ও শান্তির বাণী শোভা পায় কি? কেন আমাদেরকে আপনারা বাইরের লোক বলছেন? আমরা কি এদেশের নাগরিক নই? আমাদের কি কোন নিজস্ব ভাষা, শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি নেই? কই, আমরাতো আপনাদের বাঙলা ভাষা ও বাঙালী সংস্কৃতি নিয়ে কখনো অমর্যাদা করিনি। করাটা কখনো সমীচিন হবে? আমরা তো কখনো বলিনি যে, বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার লোক ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরী কিংবা নানা কর্মসংস্থানের সুবাদে র্পাবত্য চট্রগ্রামে বসবাস করতে পারবেন না। তাহলে রাষ্ঠ্রীয়ভাবে কেন আমাদেরকে এত পর ভাবা হচ্ছে? .আর কেনই বা পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনাদের এত অনীহা? কেনই বা পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদকে কার্যকর করা হচ্ছে না? দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও কেনই বা এখনো আঞ্চলিক পরিষদের বিধিমালা প্রণীত হয়নি? আর তা না করে কেন আপনারা বার বার ভূমি জরিপের কথা বলছেন? অহেতুক কেন জাতি হিসেবে পাহাড়ীদের নৈতিকতা, সহজ ও সরলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন? আর তা না হলে কেন একতরফাভাবে পাহাড়ীদের উপর দোষ চাপাচ্ছেন? এর পেছনে আঞ্চলিক পরিষদের অকার্যকারিতার সুযোগে পাহাড়ে ভূমি মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ধরণের জালিয়াতি করার কোন সুক্ষ্ম পরিকল্পনা নেই তো? যদি নাই বা থাকে, তাহলে কেন সরকার মনোনীত অযোগ্য লোকদের দিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ চালানো হচ্ছে? এটা কি পার্বত্য চট্রগ্রামের পাহাড়ী-পাহাড়ী ও পাহাড়ী-বাঙালীদের মধ্যকার বিভাজনকে ত্বরান্বিত করছে না?

    জনসংহতি সমিতি অস্ত্র জমা দিয়ে নিজেদের দায়িত্বসম্পন্ন করলেও কেন দীর্ঘ এক যুগ পরও সরকার চুক্তির পুর্নাঙ্গ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে? কেনই বা পার্বত্য চট্রগ্রামে পাহাড়ীদের বসবাসের সবচেয়ে উর্বর ভূমিগুলোতে সমতলের বাঙালীদের পুর্নবাসন করা হলো? কেন খাগড়াছড়ি ডিসি অফিস পোড়ানো হলো? কেনই বা পার্বত্য চট্রগ্রামে বারবার সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটানো হলো? এ-বিষয়ে নাগরিক হিসেবে এখনো পর্যন্ত কোনটারই সঠিক সুরাহার পরামর্শ আপনারা সরকারকে দিতে পেরেছেন কি? যদি কখনো পেরেও থাকেন, তাহলে পাহাড়ীদের নিয়ে আপনাদের মধ্যে কেন এত দ্বিমুখীতা? আর তা না হলে একদিকে পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন এর কথা বলেন, আবার অন্যদিকে পাহাড়ে সেনা উপস্থিতি বহাল রাখতে চান -এ কিভাবে সম্ভব?

    এদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা পাহাড়ীরা সকলে চাই, আমাদের মত আপনারাও পার্বত্য চট্রগ্রাম সহ এদেশের সকল এলাকায় সংঘঠিত হত্যাকান্ড, সাম্প্রদায়িক হামলা ও ভূমি জবর-দখলের মত জঘন্য অন্যায়-অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে সব সময় সোচ্চার থাকবেন। এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই এদেশের পাহাড়ী-বাঙ্গালী সহ সকল নাগরিকের অধিকার, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিকে সম-মর্যাদা এবং গুরুত্ব প্রদান করবেন। কারণ সত্যিকার বিবেকবান মানুষের এটাই নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

    ৩১/০৩/১০

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

এই চমৎকার চিন্তাশীল লেখাটি ফেসবুক গ্রুপ 'পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice' এ শেয়ার করেছি। ধন্যবাদ।
http://www.facebook.com/home.php?sk=group_150002018385535&view=doc&id=16...

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন