• পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থলবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ: বাণিজ্য সম্প্রসারণের নামে অরাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পূর্বপরিকল্পিত কৌশল
    উৎপল খীসা

    গত ২৬ অক্টোবর ২০১০, “দৈনিক প্রথম আলো” পত্রিকার প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর শাহ’র কল্যাণে পার্বত্য চট্টগ্রামে দু’টো স্থলবন্দর নিমার্ণের সরকারী উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হয়। খবর’টি পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নিপীড়িত অধিবাসী হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। বিশেষ করে এই কারণে যে, এই ধরণের একটি সুদুর প্রসারী ঘটনা সেখানে ঘটতে যাচ্ছে, তা কিছুদিন আগে কিছুটা আঁচ করতে পারলেও এত দ্রুত যে ঘটবে তা সত্যিই আমার কল্পনার বাইরে ছিল।

    আমার এই লেখা পড়ে এদেশের নাগরিক হিসেবে হয়তো অনেকেই আমার আতঙ্কিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন! প্রশ্ন তোলাও মোটেই অবান্তর নয়। কারণ এই দু’টি স্থলবন্দর নির্মাণের মাধ্যমে যদি দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয় এবং তার ফলশ্র“তিতে যদি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে তা একদিকে যেমন পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বেকারত্ব দুর করবে, অন্যদিকে তেমনি সেখানকার সন্ত্রাসবাদসহ নানা সামাজিক অস্থিরতা দুরীকরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সর্বোপরি তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব অবদান রাখবে! কাজেই অহেতুক সন্দেহের বশবতী হয়ে এই ধরণের একটা জাতীয় কল্যাণকর বিষয়কে কেন্দ্র করে আতঙ্খিত হয়ে পড়া নি:সন্দেই একটা বালকসুলভ ভয় বৈকি!

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই আতঙ্ক? এই বিষয়টিকে অনুধাবন করার জন্য “দৈনিক প্রথম আলো” পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের দিকে একটু দৃষ্টিপাত করা উচিত। প্রকাশিত খবরের অংশ বিশেষে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দু’টি স্থলবন্দর নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রায় চুড়ান্ত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থে বাস্তবায়ণের জন্য পরিকল্পিত প্রকল্পের নাম প্রাথমিকভাবে “তেগামুখ ও রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প” হিসেবে প্রায় চুড়ান্ত করা হলেও রাঙ্গামাটির স্থলবন্দরের স্থান নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থাকায় সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এ কে এম ইয়াহিয়া চৌধুরীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিডিআর ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সদস্যভূক্ত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদসহ অন্যান্য সংস্থার কোন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। অধিকন্তু, অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে গত ১৮ জুলাই ২০১০, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় অতি জরুরী ভিত্তিতে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে পার্বত্য চট্টগ্রামে দুটি স্থলবন্দর নির্মাণের প্রস্তাবনা তৈরী করতে নির্দেশ দেয়। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সাড়ে ২০ একর সরকারী খাস জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে বন্দর দুটি সম্পূর্ণ নির্মিত হওয়ার কথা বলা হলেও ভূমি উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর, এপ্রোচ ও টার্মিনাল রোড, পণ্য উঠানো-নামানোর ইয়ার্ড, ওয়ার হাউস, ওজনযন্ত্র, পণ্য উঠানো-নামানোর জেটি, অফিস ও আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থলবন্দর নির্মাণের ঘটনাকে সাধারণভাবে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করা গেলেও একটু গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, বিষয়টি মোটেই তা নয়। বরং অদুর ভবিষ্যতে তা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসমূহের জীবনে একটা বড় ধরণের চপেটাঘাত ছাড়া বই কিছুই নয়। সত্যি বলতে কি, এটা অনুধাবন করার জন্য কোন বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকারও নেই। খালি চোখেই তা ধরা পড়বে। বিশেষ করে যারা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখেন তাদের কাছে তো বটেই। কারণ এধরণের উন্নয়নের দৃষ্টান্ত খুঁজে পেতে এখন আমাদের আর তেমন হাতরাতে হয় না। হরহামেশাই মেলে।

    যেমন কর্ণফুলী পেপার মিল স্থাপন ও কাপ্তাইবাঁধ নির্মাণসহ প্রভৃতি ঘটনা। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে শাসকশ্রেণী স্থানীয় জনগণের উন্নয়নের অজস্র বয়ান রচনা করলেও বাস্তবিক অর্থে তা ছিল স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী গুলোর সাথে একটা বড় ধরণের শুভঙ্করের ফাঁকি। যার ভেতরে গ্রথিত রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের অবর্ণনীয় দীর্ঘশ্বাস, শোক আর হাহাকারের মাতম। জাতি হিসেবে সত্যিই দুর্ভাগ্য আমাদের, বিংশ শতাব্দীর যুগে পদার্পন করেও এমন একটা কল্যাণমূখী (!) রাষ্ট্রের মধ্যে আমরা বসবাস করছি। যে রাষ্ট্রে উন্নয়নের নামে প্রায়শই বিভিন্ন কল্পকথা রচিত হলেও প্রকৃতঅর্থে মুদ্রার উল্টো পিঠে খোদিত থাকে সাধারণ জনগণের নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার মাধ্যমে সর্বসান্ত হয়ে পড়ার এক মর্মান্তিক ট্রাজেডি।

    আর এসকল মানবতাবিরোধী ও অনৈতিক কীর্তিকলাপকে বৈধতা দিতে প্রভাবশালী ঐ গোষ্ঠীর বিভিন্ন সাঙ্গপাঙ্গদের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নয়নের নানা ফিরিস্তির ফেনা তোলা হয়। কার্যত এসবই হচ্ছে সভ্যতার মুখোশধারী কপট সুবিধাবাদীদের ঝোপবুঝে কোপ মারার একেকটা অপপ্রয়াস। যেমনটি আবারো ঘটতে চলেছে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে দুটি স্থবন্দর নির্মাণের মাধ্যমে। খবরটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সব কিছুর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগণের সাথে একটা বড় ধরণের প্রতারণা জাল পাতানো হয়েছে। এটা স্পষ্ট করার জন্য এখানে কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা যেতে পারে-

    ১. পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ এক যুগেরও অধিক আগে “পার্বত্য চুক্তি” সম্পাদিত হলেও বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় তা রাখা হয়নি। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে অতি দ্রুততার সাথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বল্প সময়ের মধ্যে স্থলবন্দর নির্মাণের প্রস্তাবনা প্রনয়ণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও এই প্রকল্প থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুমচাষীসহ অন্যান্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ন্যূনতম উপকৃত হওয়ার চেয়ে নিজ বাস্তুভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এটা কি বর্তমান সরকারের পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার সত্যিকার নমূনা?

    ২. স্থলবন্দর নির্মাণের জন্য যে সরকারী খাসজমি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগণসহ দেশের অপরাপর অঞ্চলের সাধারণ জনগণকে শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়ার একটা বড় ধরণের চক্রান্ত। কারণ এই প্রকল্পে প্রকৃতঅর্থে যে জমি ব্যবহার করা হবে তার প্রথাগত মালিক সেখানকার স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগণ। তাই কোনভাবেই সেটাকে সরকারী খাস জমি বলা অযৌক্তিক এবং তা বলা অবশ্যই এক ধরণের স্বেচ্ছাচারিতা। তারপরও সেটা করা হচ্ছে মূলত এই কারণে যে, তাতে জনগণের ক্ষোভ অনেকটা প্রশমিত করা যাবে। অধিকন্ত, যে পরিমাণ জমি (সাড়ে ২০ একর) ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে তা দিয়ে পাহাড়ী-পার্বত্য এলাকায় দু’টি স্থলবন্দর নির্মাণের মত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা একেবারেই অসম্ভব। কাজেই বাস্তবিক অর্থে তা কয়েক গুণ বেশি হলেও জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য এই ধরণের প্রচারণা যে চালানো হচ্ছে না তার নিশ্চয়তা কোথায়?

    ৩. যে কোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ/জনপ্রতিনিধি/প্রতিষ্ঠানের (যেমন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ) সম্পৃক্ততার কথা জোর দিয়ে বলা হলেও এই প্রকল্পে আদৌতে তা রয়েছে কিনা সেটা স্পষ্ট নয়। আর সবচেয়ে আশঙ্কার জায়গাটা হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হিসেবে যে সকল সংস্থার নাম উঠে এসেছে এবং যেভাবে তড়িঘড়ি ও অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে সে অঞ্চলে স্থায়ী সামরিকায়নের কোন ষড়যন্ত্র যে হচ্ছে না তা কিভাবে বিশ্বাস করি?

    ৪. এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারো নতুন করে বাঙ্গালী পুনর্বাসনের আশঙ্কা কি একেবারেই অমূলক?

    ৫. এর ফলশ্র“তিতে পার্বত্য চুক্তির মত একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আরো কঠিন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া কিংবা কৌশলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে না তো ?

    ৬. অধিকন্তু, এরই মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসরত খেটে খাওয়া জুমচাষীসহ অন্যান্য দরিদ্র জনসাধারণকে নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করে আরো প্রান্তিকীকরণ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলিয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াটাকে আরো জোরদার করা হচ্ছে কি ?

    সত্যি বলতে কি, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এধরণের নানা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই চলে আছে। এসবই বিবেচনার দায়ভার পাঠকের উপর ছেড়ে দিলাম। এদেশের একজন নাগরিক হিসেবে এবং সেখানকার একজন অধিবাসী হিসেবে আমার এই আশঙ্কামূলক অনুমান যদি সত্যি না হয়ে মিথ্যে পর্যবসিত হয় তাহলে অন্য অনেক ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগণের মত আমিও সবচেয়ে বেশি খুশি হবো। তা সত্ত্বেও এখানে যে কথা বলতে চাই, যেহেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বহুদুর এগিয়েছে তাই এই বিষয়টি নিয়ে এখনই সংশ্লিষ্ট সকলের বিশেষভাবে নড়াচড়া করা দরকার। প্রকল্পটির দীর্ঘস্থায়ী ভয়াবহতা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সকল বিবেকবান জনগণ, রাজনৈতিক দল ও প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করা উচিত। নতুবা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেখানে আবারো নতুন মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। যে বিপর্যয়ে প্রধানত শিকার হবেন ঐতিহাসিকভাবে অবহেলিত ও নিপীড়িত ক্ষুদ্রজাতিসত্তার জুমচাষীসহ সেখানকার অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। কারণ এই ধরণের জনগোষ্ঠী উল্লেখিত মানের বড় ধরণের প্রকল্প থেকে কখনো লাভবান হয়েছে বলে তা আমার আদৌতে জানা নেই।

    বরং নিজেদের সবকিছু হারিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দিকভ্রান্ত হয়ে স্বার্থান্বেসী গোষ্ঠীর দাবার গুটিতে পরিণত হন। ফলে বেঁচে থাকার তাগিদে তাদের অনেকেই চৌর্যবৃত্তি, পাঁচার ও চাঁদাবাজীসহ নানা ধরণের সন্ত্রাস ও অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন। বেনাপোল, হিলি স্থলবন্দরসহ দেশের অন্যান্য সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত পয়েন্ট গুলোতে বসবাসরত সাধারণ খেটে-খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বর্তমান দুর্দশার দৃষ্টান্ত এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে।

    আর পার্বত্য চট্টগ্রাম যেহেতু একটা সামরিকায়নের মধ্যে রয়েছে তাই প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তার নিশ্চিতকরণের জন্য আবারো একটা বিশেষ গোষ্ঠী থেকে সেখানে নতুন করে সামরিক বাহিনী নিয়োজিত করার দাবী স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসবে। বিশেষ করে এই কারণে যে, রাজনৈতিক সরকারের আমলে এই প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য মতে সবকিছুই সামরিক কায়দায় পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তাই এই প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ বা নিশ্চিতকরণের জন্য যে পরিবেশের ভেতর দিয়ে সুনিদিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল তা কখনোই আমলে নেয়া হয়নি। বস্তুত এটা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত কমিটির পূর্বপরিকল্পনায় অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রণীত রূপরেখা বাস্তবায়নেরই যে সুপারিশ তার একটা বড় রকমের উদ্যোগ। তাই এটাকে রাজনৈতিক মোড়কে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নামে পাহাড়ে স্থায়ী অরাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পূর্বপরিকল্পিত কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করাটাই যুক্তিসংগত। কাজেই এদেশের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের নামে জাতীয় স্বার্থের নিরিখে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও এখান থেকে প্রকৃতপক্ষে তারাই লাভবান হবেন, যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক তা কখনোই চান না। কারণ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা খুবই সহজ।

    উৎপল খীসা, গবেষণা কর্মী

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন