• ভবিষ্যত প্রজন্ম নিয়ে জাতির বিবেকের দায়িত্বঃ প্রেক্ষিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
    মোহাম্মদ আলী আকন্দ মামুন

    বুদ্ধিজীবী হিসেবে আখ্যাত বিভিন্ন পেশার মানুষ যাঁরা বুদ্ধির চর্চা করেন তাঁদের একটা বড় অংশই হচ্ছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। এ-সকল বুদ্ধিজীবীরা জাতির বিবেক হিসেবেও পরিচিত। ’জাতি’ ও ’বিবেক’ শব্দ দুটি’র ব্যাপ্তি অনেক। জাতির বিবেক হিসেবে চিহ্নিত সমাজের অতি সম্মানিত এবং একইসাথে সামাজিকভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত এই গোষ্ঠীর সদস্যদের কে কতোটা ভাবেন দেশ-জাতিকে নিয়ে আর কতোটা ব্যক্তি-স্বার্থ বাস্তবায়নের চিন্তায় ব্যস্ত থাকেন, তা অনেকেরই জানা নেই। তবে জাতীয় স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্টজনদেরকে এ বিষয়ে সচেতন থাকা আবশ্যক।

    বাংলাদেশের প্রায় সব ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অর্জনই ছাত্র-আন্দোলন নির্ভর। আর ছাত্ররা অনুসরণ করে শিক্ষকদেরকে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ছাত্ররা শিক্ষকদের মধ্যে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আদৌ কিছু খুঁজে পায় কি-না, তা গবেষণার অপেক্ষা রাখে। বিগত দু’বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে তা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে - আমার মতে বেশ ঘৃণা ভরেই। কিন্তু ভেতরের সকল বিষয় যদি জাতির সামনে উন্মোচিত হতো তাহলে, আমার ধারণা, এ-বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিলুপ্ত করে দেয়ার দাবি উচ্চারিত হতো অনেক আগেই।

    বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে বিপরীতে শিক্ষক সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের চিন্তা-চেতনা ও কর্মকাণ্ড একেবারেই বেমানান। আমরা শিক্ষকরা যুক্তিতে না-পেরে শেষে আন্দোলনের নামে পেশী-শক্তির আশ্রয় নিয়ে দু-দু’জন উপাচার্যকে পদচ্যুত করেছি। উদ্দেশ্য নাকি পদ প্রাপ্তি আর নিয়োগ বাণিজ্য! অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীরের বিরুদ্ধে যে-আন্দোলন হলো এবং যেভাবে তা হলো, তা যৌক্তিক ছিলো না। এ-দাবি করছি এ-কারণে নয় যে তিনি ত্রুটিমুক্ত ছিলেন। বরং এ-কারণে যে, তাঁর বিরুদ্ধে একজন ছাত্রের অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ইস্যু নিয়ে শিক্ষকদের করণীয় বিষয়ে শিক্ষক সমিতির ডাকা সভা থেকে 'উপাচার্য বিতাড়নের আন্দোলন' শুরু হয়ে গেলো।

    হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে-আন্দোলন হলো, সেখানে তৎকালীন উপাচার্য দোষী ছিলেন না। বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন উপাচার্যের নেতৃত্বের প্রশাসনই একটি হত্যাকাণ্ডের বিপরীতে এতো পদক্ষেপ নেয়নি। নিজেরা আসামী ধরে পুলিসে সোপর্দ ও মামলা করা, উপাচার্যের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগে মূল দোষীদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করার পর ছাত্রদের দাবির মুখে জরুরী সিন্ডিকেট সভায় দোষীদের আজীবন বহিষ্কার-সহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির একজন সদস্যকে যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তৎকালীন প্রশাসন। এর দিন কয়েক পর শিক্ষক সমিতির সভায় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি কোনো যৌক্তিক মানুষ করতে পারে কি?

    আমরা অনেকেই বলেছিলাম ঐ-বাস্তবতায়  শিক্ষক সমিতির করণীয় একটাইঃ যেনো প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নে কোন প্রহসনের আশ্রয় না নিতে পারে। যুক্তিতে না পেরে তারা সমিতি থেকে বেরিয়ে গিয়ে একটি মোর্চা করলেন, উপাচার্যকে অফিসে প্রবেশে বাধা দিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে তার পরিবার-পরিজন সহ বাসভবনে অন্তরীণ করে রাখলেন। সরকার মূল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা না করে উপাচার্যকে প্রত্যাহার করে নিলো। তাঁর স্থলাভিষিক্ত অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও শুরু হল একই কায়দায় আন্দোলন। মূল কারণ পদ-পদবী প্রাপ্তি - যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদের বিষয় হয়েছে বার-বার।

    তারপরও সরকার যন্ত্রের কোন এক রহস্যজনক ভূমিকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি অচল হয়ে থাকলো দীর্ঘদিন। কিন্তু অধ্যাপক আনোয়ার-বিরোধী আন্দোলন শুরুর মূল যে কারণটি দেখানো হয়েছিলো তা হলো, একজন ছাত্রনেতা কর্তৃক একজন শিক্ষক-লাঞ্ছণা। আমরা বিস্ময়ের সাথে প্রত্যক্ষ করেছি শিক্ষক সমিতি প্রশাসনের সাথে আলাপ আলোচনা করে তাদের মতো করে একটি তদন্ত কমিটী গঠন করার দিন কয়েক পরে সাধারণ সভা ডেকে ঘটনার বিচারের দাবিতে ক্লাশ পরীক্ষা বর্জন করলেন টানা তিনটি মাস - অনেক শিক্ষকের সরব বিরোধিতার পরেও। তাঁরা শ্রেণীকক্ষে তালাও লাগিয়ে রেখেছিলেন। তদন্ত কমিটির প্রায় সকলে নিজেরাই ছিলেন আন্দোলনকারী। কমিটির একজন 'বিএনপি-পন্থী' সিন্ডিকেট সদস্য ঐ-ছাত্র নেতার গুণকীর্তন করেছেন। শাস্তির সুপারিশ যেখানে হয়, সেই ডিসিপ্লিনারী কমিটীর প্রায় সকলেই ছিলেন উপাচার্য বিরোধী।

    অথচ না হলো শাস্তির কোন সিদ্ধান্ত, না কোন সদস্য দ্বিমত পোষণ করলেন। সিন্ডিকেট সভায় যথানিয়মে তাঁদেরই প্রস্তাবিত হাস্যকর এক সুপারিশ গৃহীত হল। যখন শিক্ষক লাঞ্ছণার কোনো বিচারই হল না, তখন আন্দোলন-কর্মসূচী জোরদার হওয়ার পরিবর্তে ক্লাশ-পরীক্ষায় ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হল। প্রহসনের এখানেই শেষ নয়। অবাঞ্ছিত উপাচার্যের কাছেই আবার কারো কারো ছেলে-মেয়ের বিদেশ গমনের ফাইলটি স্বাক্ষর করাবার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করতে আন্দোলনকারীদের আত্মসম্মানে কোনরকম বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এই আন্দোলনকারীগণ মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ অমান্য করে প্রো-উপাচার্যদ্বয়কে এবং  রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে তাদের অফিস কক্ষে যথাক্রমে টানা ১৪ দিন এবং ৯ দিন বন্দী করে রেখেছিলেন। একইসাথে 'রেসপণ্ডেণ্ট' হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও অন্যরা আদালতের আদেশ উপেক্ষা করায় আদালত অবমাননা করেছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের জন্য উল্টো আঁতাত করেছেন আন্দোলনকারীদের সাথে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ধ্বংসের দ্বার-প্রান্তে ঠেলে দিয়েছেন।

    কাদের দেয়া কী তথ্যের উপর ভিত্তি করে সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা আমার জানা নেই। কারণ, দু’জন উপাচার্যকে সরানোর যৌক্তিক কারণ থেকে থাকলে এবং তাদের দোষ থাকলে তাদের বিচার হওয়া উচিত ছিলো প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে। আর তাঁরা দোষী না হয়ে থাকলে আন্দোলনকারীদের বিচার হওয়া আবশ্যক ছিল। অথচ হয়নি কোনটিই! সরকারের কাছে কি এ-তথ্য ছিল না যে, যে-ছাত্র নেতাকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ আন্দোলনটির সূত্রপাত হলো সে-ছাত্র নেতার সাথেই আন্দোলনকারীদের সখ্যতা ছিল বাড়াবাড়ি রকমের? আন্দোলন চলাকালে তাদের সাথে ঐ ছাত্র নেতার গোপন বৈঠক হতো বিভিন্ন জায়গায়? এবারে আসা যাক আন্দোলনকারীরা জয়ী হয়ে 'মসনদ' পেয়ে ঐ ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? শুনা যায় এবং অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন, নতুন প্রশাসনের সাথে শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী ঐ-ছাত্রনেতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় - যদিও তার ছাত্রত্ব নেই এবং সে তার রাজনৈতিক সংগঠন থেকেও বহিস্কৃত। আশা করি পাঠকদের আর কিছু বলে দিতে হবে না।

    গত কয়েকদিনে প্রগতিশীল এবং আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন শিক্ষক গ্রুপের-একাধিক প্রতিবাদলিপি এবং সংবাদ-মাধ্যমে প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা গেলো, আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা নানা জাতের শিক্ষকদের 'হালুয়া-রুটি' ভাগাভাগির কেচ্ছা। যারা অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন তাদেরকে রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠে পুরষ্কৃত করা হয়েছে। তবে, পদ্ধতিটি অভিনবঃ গণহারে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির ১৫ জন শিক্ষককে তাঁদের পদ থেকে এক দিনে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। যাদের সরানো হয়েছে তাদের সাথে ন্যূনতম সৌজন্যতা দেখাননি দেশের প্রথম নারী উপাচার্য। তিনি তাঁর অভাবনীয় সংকীর্ণ রুচিবোধ এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য কূটকৌশল ভালভাবেই দেখিয়েছেন।

    তবে সেটি তিনি করেছেন সরকারকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে। তাঁর সহযোগী আন্দোলনকারীদের খুশী রাখার জন্য পদ না-থাকার পরেও তিনি নিয়োগ দিয়েছেন “সিন্ডিকেটে পদ সৃষ্টি সাপেক্ষে” উল্লেখ করে। যে পদ এ-মুহূর্তে বিদ্যমান নেই, ভবিষ্যতে সৃষ্টি করা হবে সে পদে নিয়োগ! এটি বড় ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম। সরকারের জানতে চাওয়া উচিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন্‌ স্বার্থে এটি করলেন প্রথম নারী উপাচার্য? তিনি উপাচার্যের আসনে আসীন হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় একজন অসুস্থ নারী সহকর্মীকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন রাত ১০.৩০টায় ঘুম থেকে তুলে তার হাতে অব্যাহতি পত্র পৌঁছে দিয়ে। একটি মাত্র আদেশে আরও ৬ জন শিক্ষককে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেন ঐ-রাতেই। এবারে তিনি আরো দু’জন নারী সহকর্মীকে পদ-অব্যাহতি দিয়েছেন তাদের সাথে কোন কথা বলা ব্যতিরেকেই।

    যে-নারী অন্য নারী সহকর্মীকে সম্মান করতে জানেন না, সেই নারী-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় নিয়ে যাবেন, তা সহজেই অনুমেয়। তিনি যদি মনে করে থাকেন যে, কেবল লোকবল দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় চালানো যায় তাহলে তাঁর স্মরণে করা উচিত যে, অতীতে সবচাইতে বেশি সংখ্যক শিক্ষকের সমর্থন নিয়েও 'মসনদে' টিকে থাকতে পারেননি তারই পূর্বসূরীরা। আমি মনে করি, তাঁরা বর্তমান উপাচার্যের চেয়ে অনেক বেশী মেধাবী ও কর্মক্ষম ছিলেন।

    মসনদ রক্ষা আর উদর পূর্তির যে ভাগবাটোয়ারায় বর্তমান উপাচার্য লিপ্ত হয়েছেন তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হল পূর্ববর্তী উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য এবং বর্তমান উপাচার্যকে টিকিয়ে রাখার সমর্থনের বিপরীতে তিনি শিক্ষক-কর্মকর্তার চাকুরীর বয়সসীমা নাকি ঢালাওভাবে বাড়াচ্ছেন। পত্রিকান্তরে এবং বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে এটি তিনি করছেন চাপের কারনে ও মসনদে থাকার লোভে। এ উদ্দেশ্যে আগামী ৩রা মে তারিখে সিনেটের বিশেষ অধিবেশনও ডেকেছেন তিনি। শিক্ষকদের চাকুরীর বয়সসীমা ৬৫ বছর থেকে ৬৭ বছরে উন্নীত করবেন। এহেন সিদ্ধান্ত জাতির জন্য কতোটা মঙ্গলজনক আর জাতির সাথে কতোটা তামাশা তা কি কেউ ভেবে দেখেছি আমরা?

    ১৫ মার্চ, ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত বিশ্বমানব উন্নয়ন সংস্থার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৬৯.২ বছর। তাহলে জাতির বিবেক হয়ে আমরা চাই মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত জাতি ও সরকারকে শোষণ করে যেতে? কীভাবে? বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের হারের যেখানে উর্ধ্বগতি এবং জাতি ও সরকারের জন্য এটি যেখানে সব দেশেই একটি বড়ো সমস্যা সেখানে জাতীয় স্বার্থের কথা আমরা ভাবছি না। আমাদের সন্তানদের কথাও ভাবছি না। অথচ, উচ্চতর ডিগ্রী নেয়া প্রতিটি সন্তানের পরিবার তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করে কবে তাদের শিক্ষিত সন্তানটি চাকুরী নামক সোনার হরিণটি পাবে আর পুরো পরিবারটি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে, সামান্য হলেও স্বচ্ছলতার মুখ দেখবে। আবার কোনো-কোনো পরিবার আছে যাদের শিক্ষিত সন্তানটি একটি চাকুরী পাবার পরই কেবল তারা মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াবার স্বপ্ন দেখতে পারে।

    এ-বাস্তবতায় আমরা 'জাতির বিবেকের' কতিপয় সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’টি বছর বাড়তি থেকে রাজনৈতিক দাবার ঘুটি নাড়াচাড়া করার উদ্দেশ্যে প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে চাকুরীর সময়সীমা বাড়াতে বাধ্য করছি তাতে সরকারের আর্থিক বোঝা কতোটা বাড়বে তা সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলকে এখনই বিবেচনায় নিতে হবে। অতীতে আমরা দেখেছি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বদ্যিালয়ে অপকর্ম শুরু হয় এবং তা ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। এটা বিএনপি ও আওয়ামীলীগ নামক বড় দু’টি দলের চেয়ে ভালভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা আর কেউ রাখে না।

    প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর যতো সংখ্যক শিক্ষক অবসর গ্রহণ করেন তার বিপরীতে সরকার প্রায় দশ গুণ কর্মসংস্থান তৈরী করতে সক্ষম। কারণ, এঁদের বেতনের বিপরীতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর নতুন নিয়োগে সরকারের বাড়তি কোন অর্থ সংকুলান দিতে হবে না। অধিকন্তু, শিক্ষকদের চাকুরী-সীমার উদাহরণ দেখিয়ে অন্য পেশার লোকজনও বয়সসীমা বাড়াতে চাইতে পারে, হয়তো বা আন্দোলনও করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যা বেশি জরুরী তা হলো শিক্ষার মান বাড়ানো, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষকদের বর্তমান নোংরা রাজনীতি যে-কোনো মূল্যে বন্ধ করে দেয়া।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, আই.এল.ও., কমনওয়েলথসহ একাধিক সংস্থার রিপোর্ট-মতে গত এক দশকে বাংলাদেশের বেকারত্ব বেড়েছে ১.৬ শতাংশ আর কর্মসংস্থান কমেছে ২ শতাংশ এবং এ-হারের পরিবর্তন না হলে ২০১৫ সালে অর্থাৎ আগামী বছরে দেশের মোট বেকারের সংখ্যা হবে ৬ কোটি। যার মধ্যে শিক্ষিতজনদের সংখ্যাই হবে বেশই। ব্রিটিশ সাময়িকী 'ইকোনমিস্ট' এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এর জরিপ অনুযায়ী বেকারত্ব বাড়ছে এমন ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বাদশ এবং এদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রীধারীই বেকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা স্নাতকদের ৫৫ শতাংশই বেকার থাকছে। তাই, সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন - “আমরা কি জাতীয় স্বার্থের কথা ভাববো? আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভাববো, না-কি আমাদের উচ্চ শিক্ষিত সন্তানদের কেবলই হতাশার আগুনে নিক্ষেপ করবো? যার ফলে নষ্ট হয়ে যাবে শিক্ষার সর্বোচ্চ সার্টিফিকেটধারী আমাদের বেকার সন্তানের জীবন এবং সেই সাথে একেকটি পরিবার? কোন্‌টি আমাদের দায়িত্ব? ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক নেশা, না-কি জাতীয় স্বার্থ ও আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম - আমাদেরই সন্তানেরা, কোনটি?”

    বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৪
    অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আকন্দ মামুন
    উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ
    প্রাক্তণ বিভাগীয় সভাপতি এবং প্রাক্তণ প্রক্টর
    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
    ই-মেইলঃ akond316@yahoo.com

    [কেবিন নং-৩২২, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, শাহবাগ, ঢাকা থেকে]


    এ-পাতায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব।

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

A well written manifest on JU and its unkind political karma by some teachers and administrators, a true story, yet live and demands justice!

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন