• হার মানা হার - ১
    যুথিকা বড়ুয়া

    (এক)

    ‘আজ গুড ফ্রাইডে। ইউনিভার্সিটি, লাইব্রেরী সব বন্ধ। এর পর শনি-রবি দু’দিনই ছুটি। অখণ্ড অবসর। কোথাও গিয়ে যে একটু ঘুরে আসবে, তারও উপায় নেই। হোষ্টেলের গণ্ডি ছেড়ে বাইরে বেরুনোই নিষিদ্ধ। তর উপরে কী সাংঘাতিক গরম। উফ্ঃ, অসহ্য! চার দেওয়ালের বদ্ধ ঘরে দম বন্ধ হবার যোগার। সকাল থেকেই গুমোট মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। কখনো বা মেঘের ছোট-ছোট স্তুপ ভেসে বেড়াচ্ছে। চলছে আলো আঁধারির খেলা। একটু হাওয়া নেই; পশুপাখীর কলরব নেই; একটা গাছের পাতা পর্যন্ত নড়ছে না! যেন থমকে দাঁড়িয়ে আছে গোটা পৃথিবীটা। সময়ের গতিবিধিই মালুম হচ্ছে না। ধুৎত্তোরি, এমন ওয়েদার ভালো লাগে কারো! বিছ্‌ছিরি!’

    স্বগতোক্তি করতে-করতে নিজের কামরা থেকে বেরিয়ে আসে জয়ন্তী। গিয়ে দাঁড়ায় ব্যাল্‌কনিতে। তবুও শান্তি পায়না। অস্বস্তি বোধ করতে থাকে। ক’দিন যাবৎ মনটা কেমন আনচান করছে। কখনও-কখনও এক ধরণের শূন্যতাবোধে বুকটা ওর খাঁ খাঁ করে উঠছে। মনে হচ্ছে, কী যেন একটা হারিয়ে যাচ্ছে। কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছে না।

    হোস্টেলের পিছন দিকটা বেশ শান্তিপূর্ণ - নিরিবিলি জায়গা। অফ্ পিরিয়েডে কিংবা ছুটির দিনে হোষ্টেলের ছাত্র-ছাত্রীরা উন্মুক্ত নীল সামিয়ানার নীচে নিঝুম পরিবেশে গভীর মনোযোগে বসে-বসে পড়াশোনা করে। কেউ পড়ে গল্পের বই। কেউ-কেউ অবকাশ যাপনে দলবদ্ধভাবে পরিবেষ্টিত হয়ে গল্প-গুজব করে, আড্ডা দেয়। কিন্তু আজ প্রকৃতিকে উপেক্ষা করেই পালা করে চলছে ব্যাটমিণ্টন খেলা। দারুণ লাগছে জয়ন্তীর। বিশাল জায়গা। বিস্তর প্রান্তর জুড়ে রোজ-গার্ডেন - গোলাপের বাগান। গার্ডেনের চারিধারে সারি-সারি দেবদারু আর কৃষ্ণচূড়া গাছ। হোষ্টেলের চারতলা থেকে দেখে মনে হচ্ছে, গাছগুলি লাল আর হলুদ ফুলে আবৃত হয়ে রয়েছে যেনো। গার্ডেনের এক কোণায় নায়গ্রার জলপ্রপাতের মতো শন্‌-শন্ শব্দে প্রবল বেগে অনবরত বইছে ঝর্ণার জল। হঠাৎ সেই শন্-শন্ শব্দের ধ্বনি প্রতিঃধ্বনিতে এক শূন্য নিবিড় নিস্তব্ধতায় গভীর তন্ময় হয়ে যেদিকে দু'চোখ যায় সর্বত্রই যেন এক অভিনব বৈচিত্র্যের সমাহার, অভিনবত্বের পসরা। যা দ্যাখে সবই নতুন লাগে, সুন্দর লাগে। সমগ্র পৃথিবীটাই যেন এক অভাবনীয় বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য্যে ঘেরা। অপূর্ব! সে এক অনবদ্য আনন্দ উপভোগ করার মতোই একটি অবিস্মরণীয় দৃশ্য। যার চারিধার এক বর্ণনাতীত ভালোলাগার উপাদানে আচ্ছাদিত এবং সমৃদ্ধ।

    বিস্ময়ে অভিভূত জয়ন্তী উন্মুক্ত অন্তর মেলে আস্বাদন করতে থাকে দিগন্তের সবুজ প্রান্তর জুড়ে মেঘলা আকাশের বুক চিরে পড়ন্ত বিকেলের ক্লান্ত সূর্য্যের কুসুম আলোয় ভেসে ওঠা প্রকৃতির চমকপ্রদ রূপ, রঙ আর সৌন্দর্য্য। কল্পনায় বিচরণ করে এক শূন্য নিবিড় নির্জন ভুবনে। যেন স্বর্গোদ্যান। আহা, কি নিদারুণ কোমল সেই অনুভূতি। ছুঁয়ে যায় ওর হৃদয়পটভূমি। শীতল হয়ে আসে হৃদয়-মন-প্রাণ, সারা শরীর। মুগ্ধতা ওকে একেবারে চুম্বকের মতো আবিষ্ট করে রাখে। চোখের পলক পড়ে না। আর সেই তীব্র ভালোলাগা আর মুগ্ধতার আমেজ ছড়িয়ে পড়ে ওর দেহে এবং মনে। জমে ওঠে হাজার প্রশ্নের ভীঁড়। এক ব্যাখ্যাতীত ভাবনার উৎপত্তি হয় ওর মস্তিস্কের মধ্যে।

    কিছুতেই ভেবে কূল পায় না, ওতো প্রায়ঃশই ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে রোজ-গার্ডেন অবলোকন করে। নজর বুলিয়ে গার্ডেনের চারিদিক পর্যবেক্ষণ করে। কোনো-কোনো দিন গার্ডেনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে। বসে বসে গল্পের বই পড়ে। কই, কখনও তো এমন অনুভূতি জাগেনি মনে। এমন ভাবান্তর আগে কোনও দিন তো হয়নি। প্রতিদিনই তো সকাল হয়, দূপুর আসে। তারপর গোধূলী এবং সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে রাত আবার ফিরে চলে যায় ভোরে। ঊষার প্রথম সূর্য্যের স্নিগ্ধ-কোমল-নির্মল আলোয় দিগন্ত জুড়ে বিকশিত করা একটি নতুন সকালে। আবার সব সকাল, দুপুর, সন্ধ্যে বা রাত কখনও ঠিক এক হয় না। তরুণ তাপসের মতো কখনো উজ্জ্বল রৌদ্রখরদ্বীপ্ত সোনালী আকাশ, কখনো ম্লান, কখনো বা ধোঁয়াটে। মানব মনেও এর প্রভাব পড়ে, প্রতিক্রিয়া ঘটে - মানুষের জীবনকেও করে নিয়ন্ত্রণ। প্রকৃতির সাথে মানব মনের এ-এক নিবিড় সর্ম্পক। কিন্তু তাতে কখনও কিছুই এসে যায়নি জয়ন্তীর। মুহূর্তের জন্যও তার মনকে কখনও মলিন ম্রিয়মান করেনি। কোনো প্রতিক্রিয়াই ওর মধ্যে দেখা দেয়নি। বরং ওতেই ও বিলীন হয়ে যেতো।

    ও তো বরাবরই একাকী সন্ধ্যায় ঘরের কোণে নিঃভৃতে নির্জনতা ও নিস্তব্ধতায় একলা থাকার ভালোলাগাটুকুই শুধু একান্তে নিবিড় করে পেতে চাইতো। গহীন অনুভূতি দিয়ে ঐ একাকিত্বটুকু উপলব্ধি করতে চাইতো। তাতেই ছিলো ওর সুখ, আনন্দ। এতকাল তা-ই হয়ে এসেছে। অথচ আজকের দিনটা সকাল থেকেই কেমন নীরব, নিরুচ্ছাস, বিষাদাচ্ছন্ন হয়ে আছে। প্রায় সারাদিনই আকাশ ঢাকা ছিলো কালো মেঘে। গোধূলীর আগেই ঘনিয়ে এসেছে অন্ধকার। মনে হচ্ছে, এক্ষুণি ঝুপঝুপ করে বৃষ্টি নামবে। অথচ কি আশ্চর্য, আজ সেই একাকী সন্ধ্যার নিঃসঙ্গ বিষন্ন জগৎ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জয়ন্তী ক্রমশ উদগ্রীব হয়ে ওঠে, বিচলিত হয়ে ওঠে। সবুর সয়না ওর। খাঁচায়-বন্দী পাখীর মতো মনটা ওর কেবলই ছটফট করতে থাকে। হঠাৎ অভাবনীয় ভাবনার জাল বুনতে বুনতে এক সীমাহীন ইচ্ছানুভূতির অতল গহ্বরে তলিয়ে যায় জয়ন্তী। খুঁজে পায়, জীবনের প্রকৃত অর্থ। আবিষ্কার করে বেঁচে থাকার সাধ। খুঁজে পায় একটি নতুন উপকরণ। আজ যেন ও প্রকৃতিতেই সম্পূর্ণ বিসর্জিত। নিয়তির কাছে আত্ম সমর্পিত। স্বপ্নের কাছে ধরাশায়ী। মন-বাসনার কারা-প্রকোষ্ঠে বন্দী। যেন নিবেদিত এক প্রাণ। মন-মানসিকতার কি অদ্ভুত বৈপরীত্য জয়ন্তীর। ইচ্ছে হচ্ছে, শূন্য গগনে উড়ে যাওয়া একঝাঁক মুক্ত-বিহঙ্গের মতো দূর নীলিমায় হারিয়ে যেতে, পুর্ণোদ্যমে খুশির পাল তুলে জীবন জোয়ারে ভেসে বেড়াতে। আরো কতো কী!

    ভিতরে ভিতরে সেই ভালোলাগার মধুর আবেশ হৃদয়কে ছুঁয়ে যায় জয়ন্তীর। টের পায়, মনের মধ্যে রস সঞ্চারিত হবার একটা তীব্র অনুভূতি। কি নিদারুণ একটা শিহরণ! রক্তের স্রোতের মতো ক্রমশঃ ওর শরীরের সমস্ত শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ছে। যেনো শুনতে পায় হৃৎস্পন্দন। যা কল্পনা শক্তিকে উদ্দীপ্ত করে, বিকশিত করে। আর সেটা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে গিয়ে জয়ন্তী বেমালুম হারিয়ে যায়, এক অভাবনীয় কল্পনার সাগরে, এক স্বপ্নময় জগতে। ও শরীরের সমস্ত অনুভূতি দিয়ে জীবনে প্রথম অনুভব করে এক অভিনব কোমল অনুভূতি। আর তৎক্ষণাৎ শারীরিক ও মানসিক অবসাদ ঝরে গিয়ে সদ্য প্রষ্ফূটিত ফুলের মতো চাঙ্গা হয়ে ওঠে। নদীর উত্তাল তরঙ্গের মতো পুলক-জাগা শিহরণে দোল খায় ওর হৃদয়-মন-প্রাণ-সারা শরীর। চোখ-মুখ থেকেও ঝরে পড়ে উচ্ছাস আর আবেগ। অব্যক্ত ভালোলাগার মধুর আবেশে হঠাৎ স্বগতোক্তি করে ওঠেঃ ‘এর নামই কি ভালোবাসা! ভালোবাসায় এতো সুখ, এতো আনন্দ!’ তবে কি সত্যিই প্রফেসর শুভেন্দুর প্রেমে পড়ে গেলো জয়ন্তী?

    চকিতে মনে পড়ে যায়, মায়ের সাথে ওর তুমুল বাকযুদ্ধ, মতান্তর - মায়ের আপত্তি-বিরোধিতা। যেদিন শ্রুতিকটূ বাক্যের তীর ছুঁড়ে মনুষ্যজাতির চিরাচরিত রীতি-রেওয়াজ, দু’টি মানব-মানবীর পবিত্র বিবাহ বন্ধনকে দৃঢ়তার সাথে অবাঞ্ছিত বলে মন্তব্য করে বলেছিলো, ‘কর্তব্যের দোহাই দিয়ে বিয়ের সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মানেই মেয়েদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে বির্সজন দেওয়া, অন্যের বশ্যতার স্বীকার করে নেওয়া, করুণার পাত্রী সেজে অন্যের পদতলে আত্মসমর্পন করা, দুঃখকে স্বেচ্ছায় বরণ করা, নিরন্তর বোঝা পোড়া, নিজের অক্ষমতাকে প্রকাশ্যে বয়ান করা, নিজেকে অবমাননা করা। যার ফলসরূপ দুঃখের দহনে করুণ রোদনে নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করা, নিঃস্ব হয়ে যাওয়া। শুধু তাই নয়, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, বিশ্বস্ততা, আস্থা এবং সামঞ্জস্যতারও একটা ব্যাপার আছে। যা নিতান্তই প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে যার ভিত্তিতে দৃঢ়ভাবে একে অপরের নির্ভরশীল হয়ে আমরণ অটুট থাকে বৈবাহিক জীবনের সুখ-শান্তি-আনন্দ এবং ভালোবাসা। তা না হলে ভিত্তিহীন আবেগ-অনুভূতিহীন দাম্পত্য জীবনের চাওয়া পাওয়ার হিসেব কষতে-কষতেই অবলীলায় একদিন নীরবে অনাদরে অবহেলায় ঝড়ে যাবে একটি মাসুম জীবন। সেটাই কি তুমি চাও মামনি? না, না এ হতে পারেনা, কিছুতেই না। রক্তে-মাংসে গড়া মানবীয় হয়ে, আপন সত্ত্বা হারিয়ে, সূঁতোয় বাঁধা অবলা কাঠপুতুলের মতো নীরবে নির্বিবাদে এই ছলনাময় সংসারে বেঁচে থাকা, এ আমি পারবো না, কক্ষনো না, কিছুতেই না! তোমার দুটি পায়ে পড়ি, একজন অচেনা অজানা অপরিচিত পুরুষমানুষের গলায় আমায় মালা দিতে বোলো না মামনি!’

    শুনে গর্জে উঠলেন সুধাময়ী, ‘এসব তুমি কি বলছো জয়া? সব মিথ্যে কথা। তোমার ভুল ধারণা। পৃথিবীর সব পুরুষমানুষ, তাদের রুচি, মনোবৃত্তি সমান নয়। যদি তাই হতো, তবে বহুকাল আগেই সংসার-নদীর প্রবাহ থেমে যেতো। বংশবিস্তার লোপ পেতো। পৃথিবীর জনমানব-শূন্য হয়ে যেতো। জীবনে কোনদিনও মানুষ বড়ো হতে পারতো না। মানুষের জীবন এতো উন্নতমানের হতো না। পৃথিবীর সৌন্দর্য্যও কখনো এতোখানি বৃদ্ধি পেতো না। জীব সৃষ্টির সাথে সাথে জীবন ধারণের নানা উপকরণ এবং ভোগের কৌশল সৃষ্টিকর্তা যেমন সৃষ্টি করেছেন, তেমনি প্রাত্যহিক জীবনে চলার পথে অনাগত দুঃখ-যন্ত্রণা দূরীভূত করার বহু পন্থাও সৃষ্টি করেছেন। এতোখানি লেখাপড়া করে এটাই কি শিখলে তুমি?’

    অসন্তুষ্ট গলায় বললেন, ‘রসায়ন পড়তে পড়তে মাথাটা তোমার একেবারেই গেছে। সারাদিন রিসার্চ করো। বাস করো ভিন্ন জগতে। সেখানে নিজস্বতার প্রাধান্যে নিজের কর্মসূচিকে এতবেশী গুরুত্ব দাও, পৃথিবীর অন্য কিছু আর তোমার নজরে পড়ে না। তাই বুঝতে পারো না। প্রত্যেক জিনিসের একটা বৈপরীত্য আছে, প্রতিঃদ্বন্দ্বিতা আছে এবং থাকবেও। বিশেষতঃ মনুষ্য জীবনে। সাধারণতঃ মানুষের জীবন কখনো একইধারায় প্রবাহিত হয় না। নদীর জোয়ার ভাটার মতো সুখ -দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা নিয়েই মানুষের জীবন। শরীর থাকলে ব্যথা-বেদনা থাকবেই, এটাই স্বাভাবিক। তাকে রোধ করা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যেমন সৃষ্টির অমোঘ নিয়মেই ঘটে আবহাওয়ার পরিবর্তন। যখন ধরিত্রীর বুকে নেমে আসে কালো মেঘের ছায়া, কখনো প্রচণ্ড তাপদাহে ঝলসে ওঠা প্রখর রোদ্দূর, কখনো বা প্রবল বেগে ছুটে আসে ঝড়-বৃষ্টি-তুফান। তেমনি মানুষের জীবনেও সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু কোনটাই চিরস্থায়ী নয়। তুমি ভেবো না, সংসার জীবনের পারিপার্শ্বিকতাকে উপেক্ষা করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করবে, জীবনকে নিজের ইচ্ছা মতো পরিচালনা করবে, দিক নির্ণয় করবে, সেটা সবসময় সম্ভব হয় না। মানবজাতির সকল সদস্য তথা নারী-পুরুষ উভয়ে একে অপরের পরিপূরক - প্রেরণা, শক্তি, শক্তির উৎস। বিশেষতঃ দাম্পত্য জীবনে। সেই সঙ্গে বিধাতার দান স্বরূপ বাচ্চা-বুড়ো-জোয়ান, নারী-পুরুষ সবার অন্তরেই ভক্তি-শ্রদ্ধা, স্নেহ-মমতা-ভালোবাসা বিদ্যমান। তফাৎ এইটুকুই, কারো প্রকাশ পায়, কারো পায় না। এই ভবের সংসারে মানুষ ভালোবাসা ছাড়া কখনোই বাঁচতে পারে না। যা অন্ন-বস্ত্রের মতো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিতান্তই প্রয়োজন। আর মানুষকে ভালোবাসা, স্নেহ করা, শ্রদ্ধা-ভক্তি করা, এ তো মনুষ্যজাতির পরম ধর্ম। আর সেই মনুষ্যকূলের তুমিও একজন সদস্য। এর উর্দ্ধে তো তুমি নও জয়া!’

    কথাটা মনে পড়তেই ঠোঁটদুটো চেপে অস্ফূটে হেসে ফেললো জয়ন্তী। শ্বাশত লজ্জা আর আবেগের সংমিশ্রণে চোখদু’টি ওর রাঙা হয়ে ওঠে। একলা নিরবিচ্ছিন্ন নির্জন সন্ধ্যায় ব্যাল্‌কনিতে দাঁড়িয়ে গভীর তন্ময় হয়ে ডুবে যায় স্মৃতি রোমন্থনে।

    (চলবে)

    [পরের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন]

    ১৮ মে ২০১৪
    যুথিকা বড়ুয়া
    কানাডার টরোণ্টো প্রবাসী লেখক ও সঙ্গীতশিল্পী

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন